উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan) ঝটিকা ভারত সফর (India) দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এই সফরের পরপরই পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এল আবুধাবির একটি ঘোষণা। ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Islamabad Airport deal) পরিচালনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তিটি বাতিল করেছে আরব আমিরশাহি।
২০২৫ সালের অগাস্ট থেকে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চললেও, শেষ মুহূর্তে আরব আমিরশাহি পিছু হঠায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও সরকারিভাবে প্রকল্পের ব্যবসায়িক অযোগ্যতাকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, কিন্তু কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে ভারতের সঙ্গে আমিরশাহির ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।
কেন এই দূরত্ব? সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও আরব আমিরশাহির সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দিল্লি সফরের পর শুভেচ্ছা হিসেবে ৯০০ জন ভারতীয় বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমিরশাহি প্রধান। দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব’ নিয়ে বড় ধরনের ফ্রেমওয়ার্ক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান বর্তমানে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তথাকথিত ‘ইসলামিক ন্যাটো’র দিকে ঝুঁকেছে, যা আমিরশাহি খুব একটা ইতিবাচকভাবে দেখছে না।
দীর্ঘ চার দশক ধরে পাকিস্তান ও আমিরশাহির মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও, বর্তমানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আরব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। আফগানিস্তানের মতো প্রতিকূল পরিবেশে বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পাকিস্তানের জন্য বড় পরাজয়।
এই পরিস্থিতির ফলে আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলো এখন পাকিস্তানের সামরিক সাহায্য বা ধর্মীয় আবেগের চেয়ে ভারতের বিশাল বাজার এবং স্থিতিশীল অর্থনীতির সঙ্গে কৌশলগত গাঁটছড়া বাঁধতেই বেশি আগ্রহী।
