উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ছেলের জীবন বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির ঘাঘরা জলপ্রপাতে জলে ভেসে যাওয়া প্রীতি দত্ত (প্রীতিদেবী) নামে ওই মহিলার মরদেহ অবশেষে উদ্ধার করল উদ্ধারকারী দল (Ghaghra Waterfalls Vacationer Loss of life)। পুলিশ ও উদ্ধারকারীদের দীর্ঘ তল্লাশির পর পাথরের খাঁজ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতা থেকে প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দল ঝাড়গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল। তাঁরা জেলার বিভিন্ন হোটেলে থাকার পর শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ বেলপাহাড়ির ঘাঘরা জলপ্রপাতে বেড়াতে যান। ওই দলে ছিলেন বারুইপুরের বর্ধমানপাড়ার বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী প্রীতি দত্ত এবং তাঁদের সাত বছরের সন্তান।
ঘাঘরা জলপ্রপাতে ঘোরাঘুরির সময়ই অসাবধনতাবশত পা পিছলে জলে পড়ে যায় ওই দম্পতির ছোট্ট ছেলে। চোখের সামনে ছেলেকে জলে তলিয়ে যেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে কোনো কথা না ভেবেই জলে ঝাঁপ দেন মা প্রীতিদেবী, যদিও তিনি সাঁতার জানতেন না। ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা তাঁর স্বামী রাজদীপবাবু অন্য এক পর্যটকের সাহায্যে ছেলেকে জল থেকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, জলের প্রবল স্রোতের টানে ভেসে যান প্রীতিদেবী। চোখের নিমিষেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং দমকল বাহিনী ও ডুবুরিদের নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর পাথরের খাঁজে প্রীতিদেবীর দেহ আটকে থাকতে দেখেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু ততক্ষণে অন্ধকার নেমে আসায় এবং জলের স্রোত অত্যন্ত প্রবল থাকায় রাতে দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও উদ্ধারকারীদের ভূমিকা নিয়ে রাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মহিলার স্বামী ও পর্যটক দলের অন্য সদস্যরা। রবিবার সকালে ফের উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ জলের নিচ থেকেই ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করে।

