শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: কারও নিজস্ব মোবাইল আছে। একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের হাতে রয়েছে সরকারের দেওয়া ট্যাবও। তবে নিয়মিত নেট প্যাক রিচার্জ (Web recharge) করার ক্ষমতা নেই বহু পরিবারের। অগত্যা ভরসা স্টেশনের ফ্রি ওয়াই-ফাই (Free wifi)। ডুয়ার্সের একাধিক রেলস্টেশনে ঢুঁ মারলেই দেখা মিলছে একদল কিশোর ও তরুণ মোবাইলে বুঁদ হয়ে রয়েছে। ফাঁকা স্টেশনের চেয়ারে বসেই চলছে সিনেমা দেখা বা গেম খেলা। যদিও স্টেশনের ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের সুবিধা অনন্ত সময়ের জন্য নয়। মাথাপিছু আধ ঘণ্টার জন্য। সেটাই কার্যত যকের ধন বাড়ির মোবাইলে নেট না থাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছে (Cellphone Habit)।
লুকসানের ক্যারন স্টেশনে এরকমই গেম খেলতে ব্যস্ত এক কিশোর বলছে, ‘স্কুল ছুটির পর আসি। বন্ধুরা মিলে কিছুক্ষণ খেলে বাড়ি ফিরে যাই। বাবা নেটপ্যাকের রিচার্জ করে দিতে পারে না। ওই কিশোরেরই এক বন্ধুর কথায়, আমরা শুধু গেমই খেলি না, সিনেমাও দেখি। বেশ কয়েকদিন ধরে ইউটিউবে তারে জমিন পর দেখে খুব ভালো লেগেছে।’
একই ধাঁচের ছবি দেখা যাচ্ছে চালসা, নাগরাকাটা, বানারহাট, বিন্নাগুড়ির মতো মফসসলের স্টেশনগুলিতে। যেখানে সারাদিনে বড়জোর ৩-৫টি যাত্রীবাহী ট্রেনের যাতায়াতের পথে স্টপ রয়েছে।
এক্ষেত্রে যাত্রীদের বসার জন্য স্টেশনগুলিতে যে সিমেন্টের বা কাঠের বেঞ্চ সার দিয়ে তৈরি করা রয়েছে সেগুলিতেই ওই পড়ুয়ারা বসে মোবাইল দেখে। যেহেতু ফ্রি ওয়াই-ফাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, সেকারণে প্রথমে একজনের মোবাইলে চালু করা হয়। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পর নিজে থেকেই ইন্টারনেটের গতি শ্লথ হয়ে গেলে এরপর অপরজন চালু করে। এভাবেই চলে পারস্পরিক সহযোগিতায় গেম খেলা বা সিনেমা দেখা।
বানারহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুকল্যাণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘পাশের রাজ্য বিহার থেকে বহু ছাত্রছাত্রী স্টেশনের ফ্রি ওয়াই-ফাইকে কাজে লাগিয়ে সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হচ্ছে। এমন মন ভালো করা খবর প্রায়শই প্রকাশ্যে আসে। আমাদের এখানেও এমনটা হলে তা প্রকৃত অর্থেই দৃষ্টান্তমূলক হত। এই বিপ্লব ঘটাতে গেলে সমাজমনস্কদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তবে শুধু গেম খেলে বা বিনোদনের জন্য ওই ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে ওদের আখেরে লাভ হবে না।’ ডুয়ার্স জাগরণ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার ভিক্টর বসু বলেন, ইউটিউবে বহু শিক্ষামূলক উপাদান রয়েছে। অনলাইনের ওই প্ল্যাটফর্মকে যদি পড়ুয়ারা কাজে লাগায় তবে এর থেকে ভালো কিছু ছিল না।’
