গাজোল: সোশ্যাল মিডিয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম (Petrol Diesel Value Rumor) এক ধাক্কায় ১০-১২ টাকা বাড়তে চলেছে এমন একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়তেই মালদার গাজোল (Gazol) সহ সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বাইক ও গাড়িতে তেল ভরার জন্য পেট্রোল পাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এই পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি সামলাতে এবং মজুতদারি রুখতে ‘র্যাশনিং’ ব্যবস্থা চালু করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC)।
এদিন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কদুবাড়ির ‘হাঁসদা রিফিউলিং স্টেশনে’ গিয়ে দেখা যায়, বাইক আরোহীদের ২৫০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে ছোট চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে ২০০০ টাকা এবং বড় গাড়ির ডিজেলের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের দাবি, ‘উপর মহলের’ নির্দেশেই এই পদক্ষেপ। তবে রাঙাভিটা এলাকার ‘বরিন্দ অয়েল ডিস্ট্রিবিউটার’ পাম্পে কিছুটা অন্য ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে একবার ২৫০ টাকার তেল দিলেও, পরপর বারংবার তেল নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত পেট্রোলিয়ামের পাম্পগুলিতে এমন কোনো কড়াকড়ি দেখা যায়নি, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন ইন্ডিয়ান অয়েলের মালদা ইস্ট রিটেল সেলস ম্যানেজার শিনচ্যান স্নিগ্ধ দা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। তাঁর কথায়, “অনেকে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন। সেই হুড়োহুড়ি রুখতেই এই সাময়িক র্যাশনিং ব্যবস্থা। অন্যান্য সরকারি পাম্পেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার কথা।” তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, যখনই প্রয়োজন হবে পাম্পে এলে তেল পাওয়া যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাম বৃদ্ধির খবরটি যে ভিত্তিহীন, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে এই ধরণের উস্কানিমূলক খবরে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরার আবেদন জানানো হয়েছে।
