গঙ্গারামপুর: টিউশন পড়তে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে ১৭ বছরের এক স্কুলছাত্রী (Gangarampur Lacking College Woman)। ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলাতে পারেনি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে অবশেষে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) মহিলা শাখা ‘দুর্গা বাহিনী’-র সহায়তায় গঙ্গারামপুর থানার দ্বারস্থ হলো নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর ব্লকের বাসুরিয়া অঞ্চলের লালচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক রায়ের মেয়ে স্থানীয় সর্বমঙ্গলা হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৭ মে সকালে রোজকার মতোই টিউশন পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সমস্ত পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না মেলায়, ১৮ মে গঙ্গারামপুর থানায় একটি লিখিত মিসিং ডায়েরি করেন ছাত্রীর ঠাকুমা।
নিখোঁজ নাবালিকার পরিবারের সরাসরি অভিযোগ— এই ঘটনার পেছনে পাশের দানিপাড়া গ্রামের এক যুবক জড়িত রয়েছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে নাবালিকাকে কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া অসহায় বাবা প্রশাসনের কাছে কাতর আবেদন জানিয়ে বলেছেন,”পুলিশের কাছে অনুরোধ, যত দ্রুত সম্ভব আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আমাদের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
অভিযোগ দায়েরের তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক ভূমিকা বা মেয়ের খোঁজ না মেলায় চরম ক্ষোভে ফুঁসছিল পরিবারটি। এরপরই তাঁরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দুর্গা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
শুক্রবার দুর্গা বাহিনীর প্রতিনিধিরা নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গঙ্গারামপুর থানায় যান এবং কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। দুর্গা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, পুলিশকে অবিলম্বে তদন্তের গতি বাড়াতে হবে এবং নিখোঁজ নাবালিকাকে দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। অভিযুক্তকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে এবং সবরকমভাবে ছাত্রীর খোঁজ চালানো হচ্ছে।
