France Unrest Immigration | ফরাসি হিংসা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! আক্রমণ ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনার পর দেশটির উত্তপ্ত সামাজিক পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron)। বুধবার তিনি সরাসরি নাম না করে আমেরিকার দিকে আঙুল তুলে জানান, আটলান্টিকের ওপার থেকে ভিন্‌দেশের কিছু নেতা রাজনৈতিক স্বার্থে ফরাসি পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন যে এই সমস্ত অস্থিরতার জন্য মূলত মুসলিম অভিবাসীরাই দায়ী (France Unrest Immigration) । ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে ম্যাক্রোঁ জানান, প্যারিস ও অন্যান্য ফরাসি শহরে গত সপ্তাহের ভাঙচুরের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর তৈরি ছবি ব্যবহার করে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে এবং বিদেশ থেকে তথ্য নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এআই-এর সাহায্যে তৈরি এমন সব ছবি ছড়ানো হয়েছে যা ফ্রান্সে কখনও ঘটেইনি। অনেকে দাবি করছেন যে আমাদের দেশ অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।” ফরাসি মন্ত্রীর কার্যালয়ও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যাতে সামাজিক মাধ্যমে কেউ ভুল তথ্য ও ভিত্তিহীন দাবি প্রচার করতে না পারে। গাল্ফ সফর শেষ করার সময় কাতার থেকে ম্যাক্রোঁ আরও ঘোষণা করেন যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে প্রতি মাসে এক লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের চুক্তি পাকা হয়েছে এবং বাহরাইনের সঙ্গেও সমপরিমাণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।

এর আগে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ফ্রান্সের এই পরিস্থিতির সঙ্গে বিদ্যালয় বা অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই, এর পুরো কারণই হল অভিবাসন। তিনি আরও বলেছিলেন, ইউরোপ যদি সীমান্ত বন্ধ না করে এবং অপরাধীদের বহিষ্কার না করে, তবে ইউরোপের পতন অবশ্যম্ভাবী। এমনকি প্যারিস খুব শীঘ্রই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালেও এই একই সুর শোনা গিয়েছিল, যেখানে তিনি ফ্রান্সকে রক্ষা করতে দ্রুত সীমান্ত বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। অথচ ফ্রান্সে এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত হয়েছিল শিক্ষক ও উন্নত বিদ্যালয় পরিষেবার দাবি জানানো শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই, যা পরে জীবনযাত্রার চড়া মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়ন এবং সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে রূপ নেয়। ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী এই আন্দোলনে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং সিজিটি ইউনিয়নের মতে এই সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ, যার প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে কোথাও অভিবাসনের কোনো প্রসঙ্গ ছিল না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *