উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দলবদলের ঠিক পরেই বড় স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan Land Controversy)। দু’বছর আগে জমি জবরদখলের অভিযোগে যে বিতর্কিত জমি নিয়ে তাঁকে নোটিস ধরিয়েছিল বরোদা প্রশাসন, এবার সেই জমিই তাঁকে উপহার দেওয়ার ঘোষণা করল গুজরাটের বিজেপি সরকার। আর এই পুরো পটপরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বহরমপুর থেকে জয়ী হওয়ার পরই ইউসুফ পাঠানের বিরুদ্ধে বরোদায় জমি জবরদখলের অভিযোগ তোলে পুরসভা। অভিযোগ ছিল, তাঁর পারিবারিক বাংলোর পাশের ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি বরোদা পুরসভা তথা সরকারি জমি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দখল করে রেখেছেন ইউসুফ। ২০১২ সালে ওই জমি ৯৯ বছরের লিজে চেয়ে পুরসভার কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুরসভা রাজি হলেও ২০১৪ সালে গুজরাট সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়।
গত বছর অগস্টে হাইকোর্টও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে ইউসুফ ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে গত ৩১ অগাস্ট হাই কোর্ট থেকে নিজের মামলা প্রত্যাহার করে নেন ইউসুফ। এর পরেই জানা যায়, ওই ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার জমি ইউসুফকে উপহার হিসেবে দিচ্ছে পুরসভা। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমির জন্য বাজারদরের মাত্র ৫৫ শতাংশ দাম দিলেই তার পাকাপাকি মালিকানা পেয়ে যাবেন তিনি। বরোদা পুরসভার কমিশনার অরুণ মহেশ বাবু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ইউসুফের আবেদন মঞ্জুর করেছে এবং খুব শীঘ্রই স্ট্যান্ডিং কমিটি ও সাধারণ সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খবরে প্রকাশ, এই জমি হস্তান্তরের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ। গত জুনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের সঙ্গে এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া) নামক নতুন দলে যোগ দেন ইউসুফ পাঠান। শুধু তাই নয়, ইউসুফ-সহ তৃণমূলত্যাগী প্রায় ২০ জন সাংসদ কেন্দ্রের শাসক জোট এনডিএ-কে সমর্থন করার কথাও ঘোষণা করেন। আর তার ঠিক পরেই ইউসুফের বিতর্কিত জমি আইনি জটিলতা কাটিয়ে উপহার হিসেবে পাওয়ার ঘোষণা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
যদিও এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিশ্বামিত্রি বঁচাও সমিতি’। সংগঠনের দাবি, গত ১৪ বছর ধরে অবৈধভাবে জমি দখল করে রেখেছেন ইউসুফ। সেই হিসেবে প্রতিদিন ১৫ টাকা প্রতি বর্গমিটার হিসেবে পুরসভার কাছে তাঁর বকেয়া প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বদলে উল্টে তাঁকে জমি উপহার দেওয়ার ঘটনায় বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

