উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে আকাশে ওড়ার সময় বিমানের ককপিটের মধ্যেই দুই পাইলটের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে (Fly Dubai Emergency Touchdown)। দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন। ককপিটের ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ধস্তাধ্বস্তির আওয়াজ যাত্রীদের কানে পৌঁছালে এক যাত্রী ককপিট খুলে দেখতে পান, এক পাইলট রক্তে ভেসে নিচে পড়ে রয়েছেন। ওমানের নাগরিক ওই দুই পাইলটই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটিতে কয়েকজন পাইলট যাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তারাই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। ইজরায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই পাইলটেরা যদি সময়মতো ককপিটের দখল না নিতেন, তবে ২০০১ সালের আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীদের উল্লাসের একটি ভিডিও সামনে এলেও তার সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই পাইলটের ধস্তাধ্বস্তির মাঝেই হামলাকারী পাইলট বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। অন্য পাইলট তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই গোলমালের মধ্যে বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে।
এদিকে মাঝাকাশেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে প্রথমে আপৎকালীন স্কোয়াক কোড ৭৭০০ এবং সঙ্গে সঙ্গেই বিমান অপহরণের সংকেতবাহী স্কোয়াক কোড ৭৫০০ পৌঁছায়। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই এই আপৎকালীন বার্তা যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিমানটি অপহৃত হয়েছে বলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে ইজরায়েলের তরফে বিমান অপহরণের বিষয়টি খণ্ডন করা হয়। বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রীর মধ্যে এই আকস্মিক ঘটনায় ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছিল।

