বাবাই দাস, তুফানগঞ্জ: ডাম্বেল তোলার খটখট শব্দ। ট্রেডমিলে নিরলস হেঁটে চলা আর জিমের (Fitness center) আয়নায় নিজের শরীরকে নতুন করে পরখ করে নেওয়ার তাগিদ। পুজোর কাউন্ট ডাউন শুরু হতেই তুফানগঞ্জ শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক অন্য আবহ। অভিনেতা জন আব্রাহাম বা টাইগার শ্রফের মতো ‘সিক্স প্যাক’ না হলেও, মেদহীন সুন্দর একটা ‘অ্যাবস’ আর চলাফেরার মধ্যে কিছুটা নায়কোচিত ভাব- পুজোর মুখে এমন সুঠাম শরীর কে না চায়! পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেভাগেই তুফানগঞ্জ শহরের ছেলেমেয়েরা তাই শরীরচর্চায় মন দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, উৎসবে নিজেকে ফিট ও আকর্ষণীয় করে তুলতে জিমমুখী হচ্ছেন আট থেকে আশি।
মঙ্গলবার শহরের কলেজপাড়া, থানা মোড় (দক্ষিণ) ও অন্তরঙ্গ মার্কেট কমপ্লেক্স সংলগ্ন জিমগুলোতে দেখা গেল চরম ব্যস্ততার ছবি। কেউ ভারী ডাম্বেল তুলে বাইসেপ ও ট্রাইসেপ তৈরিতে ব্যস্ত, কেউ আবার ট্রেডমিল বা লেগ প্রেসের সাহায্যে কসরত করছেন। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি প্রবীণরাও শরীর সুস্থ রাখতে সকাল-সন্ধ্যা জিমে ছুটছেন। জিম কর্তৃপক্ষ জানাল, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় পুজোর মাসদুয়েক আগে থেকেই নতুন সদস্যের হিড়িক পড়ে যায়। শহরের অভিজ্ঞ ট্রেনার বিশ্বনাথ বর্মনের কথায়, ‘‘ইংরেজিতে একটা কথা আছে না ‘স্লো বাট স্টেডি উইন্স দ্য রেস’! যা শরীরচর্চার ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ সত্যি। এটা অনেকটা তপস্যার মতো। সহজে ফল মেলে না। তাই যাঁরা পারফেক্ট লুকের টানে আসেন, তাঁদের সারাবছর শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করি।’’
পুজো আসতে হাতে এক মাসও নেই। এখন উৎসবের প্রস্তুতি আর নতুন পোশাাক বা সাজগোজের গণ্ডিতে আটকে নেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতা। শরীরচর্চাকারীদের অনেকে চাইছেন ‘ভি’ আকৃতির শরীরে কোমরের মাপ কমিয়ে ২৮-৩০ ইঞ্চির মধ্যে আনতে। জিমে আসা রিপন বর্মন বলেন, ‘শুধু নতুন পোশাক নিলেই তো হল না, দেহের সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই। তাই ফিটনেস নিয়ে নজর দিতেই কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে শরীরচর্চা শুরু করেছি।’ একই বক্তব্য ঐশী তালুকদারেরও।
কলেজপাড়ার জিম প্রশিক্ষক শুভ্রজ্যোতি রায় জানান, ম্যাজিক করে অল্প সময়ে শরীর গঠন করা যায় না। দিনে আধ থেকে দেড় ঘণ্টা করে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর নিয়মিত সময় দেওয়া জরুরি। তবে সারাদিন লো-ক্যালোরি খাবার খেয়ে সন্ধ্যায় চপ, পেঁয়াজি বা মোমো-ফুচকা খেলে কোনও লাভ নেই। নিয়মিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তবে সবাই যখন জিমে ছুটছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চিকিৎসকরা। তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক অরিন্দম পালের পরামর্শ, ‘হঠাৎ জিমে গিয়ে বেশি সময় কসরত করলে উপকারের চেয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁরা প্রথম যাচ্ছেন তাঁদের উচিত ট্রেনারের পরামর্শ মেনে ফ্রি-হ্যান্ড, যোগব্যায়াম ও সঠিক ব্যালেন্সড ডায়েট করা। ক্ষমতা না বাড়িয়ে হঠাৎ ভারী ওজন তুললে কার্ডিয়াক আউটপুট বেড়ে গিয়ে হৃদযন্ত্রে বিপদ ঘটতে পারে।’ সব মিলিয়ে শুধু উৎসবের আগে নয়, সুস্থ থাকতে সারাবছর নিয়ম মেনে শরীরচর্চার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

