উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে ফুটবলের লড়াই যত না চর্চায়, তার চেয়ে ঢের বেশি আলোচনা চলছে মাঠের রেফারিং নিয়ে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই একের পর এক ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলার থেকে শুরু করে হাই-প্রোফাইল কোচেরা। তবে মাঠের সেই ‘বিদ্রোহ’ যে ফিফা (FIFA) একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছে না, তা এবার স্পষ্ট হয়ে গেল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়া মাত্রই রেফারিদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা কোচ ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবারের মেগা টুর্নামেন্টে রেফারিংয়ের মান নিয়ে ফুটবলারদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। ম্যাচ চলাকালীন মাঠের ভেতরে রেফারির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তর্ক করা যেমন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে, তেমনই ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে রেফারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেও ছাড়ছেন না অনেকে। রেফারিদের অসম্মান করার তালিকায় রয়েছেন—
- ইংল্যান্ডের চাণক্য কোচ টমাস টুখেল
- আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিয়োনেল মেসি
- সুইৎজারল্যান্ডের তারকা ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি
- মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান
ফিফা স্পষ্ট করে দিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠের খেলায় বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য এই মুহূর্তে কারও বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। তবে রেফারিদের ম্যাচ রিপোর্ট এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে টুর্নামেন্টের পরেই চূড়ান্ত কোপ পড়তে চলেছে দোষীদের ওপর। বিশ্বকাপের মঞ্চে ম্যাচ পরিচালকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন প্রথম সারির কোচেরা।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ফ্রান্সের কোচ। মাঠের রেফারিকে নজিরবিহীন আক্রমণ করে তিনি বলেন: “চতুর্থ এবং পঞ্চম রেফারি তাও ঠিকঠাক ছিলেন। কিন্তু মাঠে যিনি প্রধান রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন, তিনি কি সত্যিই একটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলানোর যোগ্য?”
অন্যদিকে, মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জয়ের পরেও ক্ষোভ থামাতে পারেননি ইংল্যান্ডের হেড স্যার টমাস টুখেল। সরাসরি তোপ দেগে তিনি বলেন, “উনি একেবারেই ভালো ম্যাচ খেলাননি। এই ধরনের রেফারিং যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে।”
একই সুর শোনা গিয়েছে মিশর শিবিরেও। আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হওয়ার পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং ফুটবলার মোস্তাফাজিকো রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এখন দেখার, কাপ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি এই বিদ্রোহী ফুটবলার ও কোচদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের শাস্তির কোপ বসায়।

