উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পেশায় ছিলেন কম্পাউন্ডার কিংবা অপারেশন থিয়েটারের সহায়ক (OT Assistant), অথচ নামের পাশে ডিগ্রি না থাকলেই কী বা আসে যায়! চিকিৎসা পেশাকে সহজ উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে সুরাটের পান্ডেসরা এলাকায় রমরমিয়ে ভুয়ো চেম্বার খুলে বসেছিলেন আট ব্যক্তি। অবশেষে দীর্ঘ দুই থেকে দশ বছর ধরে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই ভুয়ো ডাক্তারদের (Faux Docs) কারসাজির সমাপ্তি হল পুলিশের সুনির্দিষ্ট জালে। স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের যৌথ হানায় ফাঁস হলো এই বিরাট প্রতারণা চক্র।
কীভাবে ধরা পড়ল এই ভুয়ো চক্র?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই পান্ডেসরা চত্বরে ভুয়ো চিকিৎসকদের দাপট নিয়ে গোপন সূত্রে খবর আসছিল প্রশাসনের কাছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাস্টারপ্ল্যান সাজায় পুলিশ। ভুয়ো চেম্বারগুলোতে পাঠানো হয় ‘ডামি রোগী’। হাতুড়ে চিকিৎসকরা হাতেনাতে ধরা পড়ার পরই আর সময় নষ্ট করেনি প্রশাসন। স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশের তিনটি দল একযোগে হানা দেয় ওই এলাকার আটটি আলাদা ক্লিনিকে। গ্রেপ্তার করা হয় আট অভিযুক্তকে।
তবে ঘটনার তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। ধৃতদের মধ্যে কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা কেবল দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত, কেউ বা আবার বিএসসি পাশ। অতীতে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টদের সঙ্গে কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাটুকুকে পুঁজি করেই তাঁরা রাতারাতি বনে যান ‘ডাক্তারবাবু’। সাধারণ অসহায় মানুষের অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর প্রেসক্রিপশন লিখে গেছেন নির্বিঘ্নে।
অভিযুক্তদের ওই ভুয়ো ক্লিনিকগুলো থেকে উদ্ধার হয়েছে ওষুধ, ইঞ্জেকশন, কাশির সিরাপ এবং নানা চিকিৎসা সামগ্রী। পুলিশ জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি। স্বাস্থ্য নিয়ে এই ধরনের ছিনিমিনি খেলার বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন এখন গোটা এলাকায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে চলা এমন ভুয়ো চক্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

