বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: আম কুড়োতে গিয়ে যৌন হেনস্থার শিকার হতে হল দুই নাবালিকাকে। ৯ বছরের ওই দুই নির্যাতিতার বুকে ও আপত্তিকর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠাছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ (Kumarganj) থানার অন্তর্গত একটি সীমান্তবর্তী গ্রামের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আজ তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে কুমারগঞ্জ থানার ওই সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা ৯ বছরের দুই বান্ধবী মিলে পাড়ার একটি আম বাগানে আম কুড়োতে গিয়েছিল। সেই সময় ওই আম বাগানের ঠিক পাশেই একটি মাছ চাষের পুকুর পাহারা দিচ্ছিলেন বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি। উল্লেখ্য, গোটা কুমারগঞ্জ ব্লক জুড়েই অসংখ্য অবৈধ পুকুর খনন করা হয়েছে গত এক দশকে। অভিযোগ, ওই দুই নাবালিকাকে আম বাগানে ঘুরতে দেখে ওই ব্যক্তি তাদের নিজের কাছে ডাকে। সে লোভ দেখিয়ে বলে, তার কাছে আসলে সে তাদের অনেক আম পেড়ে দেবে। সরল বিশ্বাসে দুই বান্ধবী ওই ব্যক্তির কাছে যায়।
কিন্তু তারা কাছে আসতেই নাকি ওই ব্যক্তি নাবালিকাদের যৌন হেনস্থা করে। দুই নাবালিকার বুকে হাত দেওয়া হয় এবং তাদের মধ্যে একজনের শরীরের আরও কিছু আপত্তিকর স্থানে হাত দিয়ে চরম যৌন হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এই আকস্মিক ঘটনায় মারাত্মক ভয় পেয়ে যায় দুই নির্যাতিতা। তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তারা কোনোক্রমে ওই ব্যক্তির হাত থেকে নিজেদের মুক্ত করে এবং সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
বাড়ি ফিরে দুই বান্ধবী পরিবারের সদস্যদের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা জানতে পেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নাবালিকাদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। সোমবার রাতেই নির্যাতিতা নাবালিকাদের পরিবারের তরফে কুমারগঞ্জ থানায় গিয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ জমা পড়তেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। সেই রাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ওই ব্যক্তির নাম ইমতিয়াজ মোল্লা (৪০)। মঙ্গলবার ধৃত ইমতিয়াজকে বালুরঘাট জেলা আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তার জামিনের আবেদন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
