উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ উত্তেজনা যেন কিছুতেই কমছে না ওপার বাংলায়। বাংলাদেশে (Bangladesh) গাইবান্ধার পলাশবাড়ির শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ৮১ ফুট উঁচু শ্রীরামের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে (Haridas Chandra Tarani Das) গ্রেপ্তার করল বাংলাদেশ পুলিশ। রবিবার (১২ জুলাই) গভীর রাতে গাইবান্ধা জেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি (CID)। তাঁর বিরুদ্ধে ৯.৩৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও অর্থ পাচারের (Cash Laundering) অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে ‘তৌহিদ ইসলাম’-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং এমএফএস (MFS) অ্যাকাউন্টে আয়ের কোনও বৈধ উৎস ছাড়াই কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি:
প্রাথমিক তদন্তে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং একটি সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে হরিদাসের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। সিআইডি আরও জানায়, ২০১০ সালে ভারত থেকে অবৈধভাবে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পর, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন এবং তৌহিদ ইসলাম নাম নেন। যদিও পরে তিনি পুনরায় মন্দিরের পরিচালনায় যুক্ত হন।
অন্যদিকে, আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের স্বপক্ষে সওয়াল করে হরিদাস বলেন, “একটা মন্দির পরিচালনা করা যদি অপরাধ হয়, তবে আমার কিছু করার নেই। উদ্ধার হওয়া সমস্ত অর্থ ভক্তদের দেওয়া অনুদান। এই টাকা কোনও বেআইনি কাজে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখুক প্রশাসন।”
হরিদাসের এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা করেছে ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’। কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কট্টরপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো এই রাম মূর্তির বিরোধিতা করে আসছিল এবং হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছিল। প্রশাসন সেই মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে হরিদাসের মতো একজন মানুষ— যিনি নিজে লাগাতার হুমকির শিকার হচ্ছিলেন— তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিষদ অবিলম্বে হরিদাসের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই এই ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলির হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত মূর্তি গড়ার কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মন্দির ও দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুর এবং এই সাম্প্রতিক অস্থিরতার ওপর কড়া নজর রাখছে ভারত সরকারও। গত ২৩ জুন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। ভারত সাফ জানিয়েছিল, বাংলাদেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে দমন করতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে এবং অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই আবহে হরিদাসের গ্রেপ্তার দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

