বহুবার নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতিও মিললেও পাঁচ দশক ধরে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন অধরা রয়ে গিয়েছে ‘দ্বীপ’ সদৃশ বড়ডোবায়। ফলে এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা শীতকালে সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা। তবে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সেতু তৈরিতে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে মুজনাই নদীর উপর পাকা সেতুর দাবিতে সরব ফালাকাটা (Falakata) পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ডোবার (Borodoba) প্রায় দশ হাজার বাসিন্দা। ফলে মূল শহর থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা শীতকালে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক প্রয়োজনে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের কথায়, পুরসভা এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনটি অংশে বিভক্ত বড়ডোবায় এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অতীতে এখানকার বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে একজনের মৃত্যু এবং মাঝনদীতে নৌকাডুবির মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি। পাকা সেতুর দাবিতে স্থানীয়রা অতীতে রাস্তা অবরোধ, গণ ডেপুটেশন জমা দেওয়ার মতো একাধিক আন্দোলনে শামিলও হয়েছেন। বহুবার নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতিও মিলেছে, তবে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গিয়েছে এই ‘দ্বীপ’ সদৃশ এলাকায়।
বর্তমানে বর্ষাকাল হওয়ায় এক ব্যক্তির নিজস্ব উদ্যোগে নৌকায় নদী পারাপার করছেন এলাকাবাসী। গ্রাম পঞ্চায়েত আমলে বিনা খরচে বাঁশের সাঁকো ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, পুরসভায় উন্নীত হওয়ার পর প্রশাসনের তরফ থেকে সাঁকো বা নৌকার কোনও ব্যবস্থা করা হয় না বলে অভিযোগ।
স্থানীয় শ্যামল বর্মন বললেন, ‘বড়ডোবা মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। কিন্তু পাকা সেতু না থাকায় ফসল সঠিকভাবে বাজারে নিয়ে যেতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। জানি না দীর্ঘদিনের এই দাবি আদৌ কখনও পূরণ হবে কি না।’
সেতু নির্মাণ নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক তরজা চলছে। বিগত সরকারের আমলে সেতুর মাপজোখ করেও অজ্ঞাত কারণে কাজ এগোয়নি। এদিকে, প্রাক্তন সাংসদ জন বারলা, এমনকি ’২৬-এর বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে বিজেপি নেতৃত্ব একাধিকবার সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক দীপক বর্মন রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী হওয়ায় সেই আশা আরও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় দিলু বিশ্বাসের কথায়, ‘আমাদের বিধায়ক এখন পূর্ণমন্ত্রী। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে মন্ত্রী ও সরকার আমাদের পাকা সেতুর দাবি দ্রুত পূরণ করবে বলেই আশাবাদী।’ যদিও বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

