উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৪৮ রানে হারিয়ে ফাইনালের পথে এক কদম এগিয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস। মুল্লানপুরের মাঠে বুধবার রাজস্থানের জয়ের নেপথ্যে থাকলেন ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়-বালক বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর ২৯ বলে ৯৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে রাজস্থান ৮ উইকেটে ২৪৩ রান সংগ্রহ করে। রান তাড়া করতে নেমে জফ্রা আর্চারের মারাত্মক বোলিংয়ের সামনে হায়দরাবাদ ১৯.২ ওভারে ১৯৬ রানে অল-আউট হয়ে যায় (SR VS RR IPL 2026)।
রেকর্ডের ছড়াছড়ি: বৈভবের তাণ্ডব
ম্যাচ শুরুর আগে প্যাট কামিন্স ঘোষণা করেছিলেন, বৈভবকে আটকানোর জন্য তাঁরা সবরকম পরিকল্পনা তৈরি রেখেছেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই ‘প্ল্যান এ, বি ও সি’—সবই ব্যর্থ করে দেন এই তরুণ ব্যাটার।
- নতুন রেকর্ড: এক মরসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার ক্রিস গেলের (২০১২ সালে ৫৯টি) রেকর্ড ভেঙে দিলেন বৈভব। তাঁর বর্তমান ছক্কার সংখ্যা ৬৫।
- দ্রুততম অর্ধশতরান: নকআউট ম্যাচে মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান করে তিনি সুরেশ রায়নার দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন।
- অল্পের জন্য হাতছাড়া: মাত্র ৩ রানের জন্য আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম শতরান করার রেকর্ডটি হাতছাড়া হয় তাঁর। আউট হওয়ার সেই শটটি ছক্কা হওয়ার দোরগোড়ায় ছিল, যা রক্ষা করে গেলের রেকর্ড।
আর্চারের বোলিং তোপ
২৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। জফ্রা আর্চারের বাউন্সার সামলাতে না পেরে অভিষেক শর্মা প্রথম ওভারেই শূন্য রানে আউট হন। এরপর ট্রেভিস হেড ও ঈশান কিশানের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদেরও দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে হায়দরাবাদের কোমর ভেঙে দেন আর্চার। সলিল অরোরা ও নীতীশ কুমার রেড্ডি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। জাডেজাও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ফাইনালের পথে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
এই জয়ের ফলে রাজস্থান রয়্যালসের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থানের প্রতিপক্ষ শুভমন গিলের গুজরাত টাইটান্স। সেই ম্যাচে জয়ী দল রবিবার ফাইনালে লড়বে বিরাট কোহলি ও রজত পাটীদারের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) বিরুদ্ধে।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ দলের মালিক কাব্য মারান থেকে শুরু করে মাঠে উপস্থিত দর্শক—সকলেই মুগ্ধ হয়ে বৈভবের এই বিধ্বংসী ইনিংসের প্রশংসা করেছেন। যদিও ৯৭ রানে আউট হয়ে বৈভব কিছুটা হতাশ, তবুও তাঁর এই লড়াকু মানসিকতাই এখন আইপিএলের মূল চর্চার বিষয়।
