Alipurduar District Hospital | জেলা হাসপাতাল যেন জতুগৃহ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখে নোটিশ দমকলের 

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের (Alipurduar District Hospital) প্রসূতি ও শিশু বিভাগ যেন একটি আস্ত জতুগৃহ। সম্প্রতি এই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দমকলের কর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়। এখানকার একাধিক জায়গাতেই অগ্নিনির্বাপণের যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি বিভাগে বাইরে বের হওয়ার মাত্র একটি রাস্তা রয়েছে। এমনকি সেখানে ধোঁয়া বের করার জন্য কোনও এগজস্ট ফ্যান বা উন্মুক্ত ছাদ পর্যন্ত নেই। ছাদের ওপর নতুন করে ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। সিঁড়ির একাংশে দাহ্যবস্তু বিপজ্জনকভাবে মজুত করে রাখা হয়েছে। প্রসূতি বিভাগ থেকে নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য আলাদা কোনও র‌্যাম্প বা ঢালু পথ নেই। এই সমস্ত ত্রুটি খতিয়ে দেখার পর দমকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। অগ্নিনির্বাপণের পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার পরই ফায়ার সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।

দমকলের এই বিজ্ঞপ্তির কথা স্বীকার করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। সুপার পরিতোষ মণ্ডলকে ফোন করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে পরিদর্শনের পর অগ্নিনির্বাপণের একাধিক সমস্যার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রদান প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার দমকলের ভারপ্রাপ্ত ওসি রাজীব দাস জানান, হাসপাতালে পরিদর্শনে যাওয়া হয়েছিল এবং সমস্যার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তার বাইরে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই সরাসরি সরব হয়েছেন। তঁার কথায়, ‘বিভিন্ন সময় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক জায়গায় দাহ্যবস্তু নজরে পড়েছে। সেগুলি অবিলম্বে স্থানান্তর করার কথা বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারাপীঠের এক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে হাসপাতালের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফের কথা বলা হবে।’

অগ্নিনির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিশু ও প্রসূতিদের নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়বে বলে দমকলের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এক সময় জেলা হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের পরিকাঠামো তৈরি করা হলেও এবং রিজার্ভার থাকলেও স্প্রিংলার ও পাম্প সহ অন্যান্য একাধিক জিনিসপত্র সম্পূর্ণ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালের একাধিক জায়গাতে স্মোক ডিটেকটরগুলিও সঠিকভাবে কাজ করে না। প্রসূতি বিভাগের নীচের ওয়ার্ডে লেবার রুম এবং গাইনিকলজির ওটি অবস্থিত। এছাড়াও সিজারের রোগী ও সাধারণ প্রসূতিদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। শিশু অন্তর্বিভাগ আবার একতলার ওপরে অবস্থিত। মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার ইউনিট নতুন করে তৈরি করা হলেও সেখানেও অগ্নিনির্বাপণের কোনও উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই বলে অভিযোগ। ভবনে সিঁড়ি এবং লিফট থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে লিফট বন্ধ রাখা হয়। অথচ প্রসূতি বিভাগ থেকে রোগী বের করার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে প্রসূতিদের ট্রলি বা হুইলচেয়ারে করে দ্রুত বাইরে বের করার জন্য কোনও ঢালু যাতায়াতের জায়গাও নেই। পুরুষ ওয়ার্ডে এই সুবিধা থাকলেও প্রসূতি বিভাগে তা না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। দমকলের কঠোর নির্দেশিকার পরেও কেন দ্রুত উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *