ফালাকাটা: জলদাপাড়া বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে সোমবার রাতে ফালাকাটা (Falakata) ও আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের একাধিক গ্রামে তাণ্ডব চালাল হাতির দল (Elephant Assault)। গভীর রাতে হাতির আক্রমণে দিশেহারা গ্রামবাসী। কোথাও রান্নাঘর ভেঙে দেড় বস্তা চাল সাবাড় করল দাঁতাল, আবার কোথাও প্রাণ বাঁচাতে বিছানার নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন বাড়ির সদস্যরা।
সোমবার রাতে জলদাপাড়া (Jaldapara) পশ্চিম রেঞ্জের ব্যাংডাকি বিটের জঙ্গল থেকে ২০টি হাতির একটি দল ফালাকাটার বংশীধরপুর গ্রামে ঢুকে পড়ে। সেখানে পীযুষ রায়ের করলার মাচা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি প্রচুর ভুট্টা নষ্ট করে দলটি। এরপর দলছুট একটি দাঁতাল আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে হানা দেয়।
যোগেন্দ্রনগরে লিটন ওরাওঁয়ের মুদিখানার দোকানের বেড়া ভেঙে ফেলে হাতিটি। তবে দোকানের সামগ্রী না খেলেও নির্মল ওরাওঁয়ের জমানো ভুট্টা সাবাড় করে। সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কাতিরাম ওরাওঁ। তাঁর রান্নাঘর ভেঙে চুরমার করে দেয় দাঁতালটি। ঘরে থাকা দেড় বস্তা চাল ও র্যাশনের আটা খেয়ে ফেলার পর শোয়ার ঘরের বেড়াও ভেঙে ফেলে। কাতিরামবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই সময় প্রাণের ভয়ে বিছানার নীচে লুকিয়ে কোনোমতে রক্ষা পান। এছাড়া একই রাতে শালকুমার ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জলদাপাড়া গ্রামে আরও একটি হাতির হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বনকর্মীদের তৎপরতায় রাতেই হাতিগুলোকে ফের জঙ্গলে তাড়াতে সক্ষম হয় বন দপ্তর। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর একটাই দাবি, ক্ষতিপূরণ নয়, এই নিত্যদিনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি চান তাঁরা। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত হাতির হানায় চাষবাস ও ঘরবাড়ি নষ্ট হচ্ছে।
বন দপ্তরের দাবি, বনকর্মীরা রাতভর নজরদারি চালাচ্ছেন। তবে রাতে বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই হাতির দল বারবার গ্রামে ঢুকে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বন দপ্তরের অন্দরেও।
