ফালাকাটা: বাটিতে মাছ ভাজা আর সামনে মদের বোতল। কিন্তু সেই মদ আর মুখে তোলা হল না বছর পঞ্চাশের এক প্রৌঢ়ের। নিজের বাড়িতেই ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন হলেন তিনি। বুধবার রাতে ফালাকাটার (Falakata) চুয়াখোলা গ্রামের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘরের ভেতর কীভাবে এই নৃশংস আক্রমণ হল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম রামায় মুন্ডা (৫০)। ঘটনার রাতে রামায়ের স্ত্রী, বড় ছেলে এবং এক মেয়ে আশাকর্মীর বাড়িতে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের নথিপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে সেই সময় রামায়ের সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্রবধূ ও ১৭ বছরের ছোট ছেলে।
ঘটনার ক্রমপর্যায়:
- আয়োজন: বৌমার কাছে মাছ ভাজা করে নিয়েছিলেন রামায় মুন্ডা। এরপর ৫০ টাকা দিয়ে পাশের বাড়ি থেকে মদের বোতল আনান তিনি। নিজ ঘরে বসে মদ খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
- আক্রমণ: হঠাৎই রামায়ের ঘর থেকে চিৎকার ও ধস্তাধ্বস্তির শব্দ পান পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘরে ছুটে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন রামায় এবং তাঁর গলা দিয়ে রক্ত ঝরছে। কেউ বা কারা গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চম্পট দিয়েছে।
- হাসপাতাল ও মৃত্যু: দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফালাকাটা থানার পুলিশ (Police)। বৃহস্পতিবার সকালে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক ঘরের ভেতর ঢুকে কে বা কারা এই আক্রমণ চালাল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
স্থানীয় একাংশের ধারণা, পারিবারিক কোনো বিবাদের জেরে এই খুন হয়ে থাকতে পারে। আবার অন্য একটি মহলের মতে, পুরোনো কোনো শত্রুতা বা মদের ঠেক সংক্রান্ত গন্ডগোলের জেরে কেউ সুযোগ বুঝে বাড়িতে ঢুকে এই হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

