উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) (SIR) সংক্রান্ত কার্যপদ্ধতি, আইনি বৈধতা এবং সার্বিক প্রভাব চুলচেরা বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ স্বাধীন কমিশন গঠন করেছে লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন বা এলএএফসি (LAFC)। এই স্বাধীন কমিশনটিতে সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাইকোর্টের পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে (Ex-Judges Fee) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারক বিচারপতি এম বি লোকুর। এছাড়া এই কমিশনে অন্য চার সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারক বিচারপতি এ কে পাটনায়ক, জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বদর দুররেজ আহমেদ, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা বিচারপতি রেখা শর্মা এবং পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারক বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশ।
মূলত নাগরিক মহলে নির্বাচন কমিশনের এই সংশোধন প্রক্রিয়াটির নকশা, রূপায়ণ এবং এর সুদূরপ্রসারী ফল নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে কোনো যোগ্য নাগরিক যাতে বাদ না পড়েন এবং একই সঙ্গে সমস্ত অবৈধ নাম যাতে সঠিকভাবে বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা যায়, তা স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন পদ্ধতির সাংবিধানিক ও আইনগত বৈধতা এবং ভোটারদের ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব কতটা পড়ছে, তা নিয়েও বিশদ তদন্ত চালানো হবে।
সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুল বেঞ্চ ও আঞ্চলিক বেঞ্চের মাধ্যমে গণশুনানির আয়োজন করবে এই কমিশন। যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন নাগরিক সমাজ বা সিভিল সোসাইটি গ্রুপ এবং বিষয়টির সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাঁদের সুনির্দিষ্ট মতামত ও সাক্ষ্য তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা নতুন নাম যুক্ত হওয়ার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে একটি ডেডিকেটেড রিসার্চ উইং বা গবেষণা শাখা তৈরি করা হয়েছে, যারা তাদের সংগৃহীত তথ্য কমিশনের সামনে পেশ করবে। এছাড়াও সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে প্রাসঙ্গিক আইন, বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়াগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে কাজ করবে একটি আইনি সহায়তা দল।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কমিশনকে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন দেশের প্রবীণ ও বিশিষ্ট আইনজীবীরা। এই আইনি দলে থাকছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিবাল, প্রশান্ত ভূষণ, চন্দর উদয় সিং, প্রশান্ত চন্দ্র সেন এবং রাজু রামচন্দ্রন। এছাড়া অ্যাডভোকেট রেবেকা মমেন জন, ওয়ারিশা ফারাসাত এবং বৃন্দা গ্রোভারের মতো বিশিষ্ট আইনজীবীরাও আইনি সহায়তা প্রদান করবেন। সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, কমিশনের সমস্ত অনুসন্ধান এবং চূড়ান্ত সুপারিশের একক দায়িত্ব প্যানেলের নিজস্ব বিচারকদের ওপরই থাকবে। কোনো পৃষ্ঠপোষক সংগঠন কিংবা সহায়ক কমিটিগুলির দ্বারা এই প্রাক্তন বিচারকদের কোনো মূল উপসংহার প্রভাবিত হবে না।
অন্যদিকে, এই কমিশনের যাবতীয় কাজকর্ম মসৃণভাবে পরিচালনা করার জন্য লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশনের তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বয় কমিটি এবং একটি পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করবে এবং একটি সর্বজনীন প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

