হরষিত সিংহ, মালদা: অন্যান্য দিনে জোটে হোমের খাওয়াদাওয়া। তবে বৃহস্পতিবার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হল অর্জুন, সমীর, বিনয়, ফ্রান্সিসদের। একেবারে পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়া যাকে বলে। কাটলেট, ফ্রায়েড রাইস, রসগোল্লা থেকে আইসক্রিম! পাত পেড়ে খেল হোমের অনাথ খুদেরা। সেইসব খুদের জন্য রীতিমতো লজ ভাড়া করে বৃহস্পতিবার এই বিশেষ আয়োজন করেছিলেন অলোককুমার ঝাঁ।
অলোকের ছেলে কল্যাণের বিয়ে হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান আগেই হয়ে গিয়েছে গ্রামের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার মালদা শহরে অনাথ খুদেদের নিয়ে আরেকটি উৎসবের আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানেও অবশ্য উপস্থিত ছিলেন অলোকদের কয়েকজন নিকটাত্মীয়, বন্ধু ও পরিজন। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খুব খুশি অর্জুনরা। তাদের জন্য একেবারে স্টার্টার থেকে শুরু করে মেইন কোর্স অবধি আয়োজন ছিল। স্টার্টার ছিল কফি, পকোড়া সহ বিভিন্ন খাবার। নিজের হাতে নিয়ে খাওয়াদাওয়া, মজা হইহুলোড়ে মেতে ওঠে তারা।
পরিবারের এমন উদ্যোগে খুশি নবদম্পতি। কল্যাণ বলেন, ‘বাবার উদ্যোগেই এমন আয়োজন। ওদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগল। সকলে মিলে একসঙ্গে আনন্দ করে ওরা খুশি হয়েছে। আমাদেরও ভালো লেগেছে।’
ইংরেজবাজার শহরের (English Bazar) রামকৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা অলোক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। শহরের বিএস রোড এলাকায় একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অনাথ শিশুদের খাইয়েছেন তাঁরা। হবিবপুর ব্লকের বাণপুর গ্রামে রয়েছে একটি অনাথ আশ্রম। সেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫০ জন শিশু রয়েছে। তাদেরই নিমন্ত্রণ করে পাত পেড়ে খাওয়ান অলোক। বললেন, ‘এই শিশুগুলোর অভিভাবক বলতে কেউ নেই। তাদের ঠিকভাবে দেখভাল করারও তেমন কেউ নেই। ওদের খাওয়াতে পেরে খুব আনন্দ পেয়েছি।’
সমীর, বিনয়রা তো মহা খুশি। একযোগে জানাল, ভালো ভালো খাবার মন ভরে খেয়েছে তারা। খুব আনন্দও করেছে। আর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে সেই হোম কর্তৃপক্ষের তরফে দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘একদম অন্যরকম ভাবনা। সেদিন দেখলাম আগে আশ্রমের শিশুরা খেল, তারপর অন্য অতিথিরা খেলেন। এমন কাজ বাকিদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’
