কল্লোল মজুমদার, মালদা: ছাত্রনেতা খুনের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ওপার বাংলায় ক্রমবর্ধমান অশান্তির আবহে সারা দেশের সঙ্গে মালদার সীমান্তে পাহারা দ্বিগুণ করেছে বিএসএফ। আর এবার জেলার হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশিদের আপাতত কোনও ঘর ভাড়া দেওয়া হবে না। এতদিন মেডিকেল বা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যাঁরা এদেশে আসতেন, তাঁদের হোটেলে জায়গা দেওয়া হত। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে সমস্ত বাংলাদেশিদের জন্যই হোটেলের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসা, পড়াশোনা কিংবা ভ্রমণের জন্য প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে যাতায়াত করতেন। এখন সংখ্যাটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ জনে। উজ্জ্বল বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে। তবুও এমন অনেকে রয়েছে, যাঁদের আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়নি। সেই ভিসা নিয়ে এখন যাতায়াত চলছে।’ তিনি হোটেল ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান।
মালদা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন অশান্তি বাড়ছে। আমাদের জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। তাই হোটেলে রুম দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’ মালদা শহরের একটি নামি হোটেলের মালিক প্রসেনজিৎ সাহার দাবি, ‘দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’ এই মুহূর্তে মালদার কোনও হোটেলে একজনও বাংলাদেশি নাগরিক নেই বলেই তিনি জানান।
এদিকে, আপাতত নয়, দেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশিদের জন্য পুরোপুরি হোটেলের দরজা বন্ধ করার দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতা গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চলছে, তাতে চিকিৎসার জন্য কেউ ভারতে আসলেও হোটেলে জায়গা দেওয়া উচিত নয়। পুরো বিষয়টির ওপর দেশের সুরক্ষা নির্ভর করে।’ বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘জেলার বড় অংশে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। শুধু মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানুষ আসছেন তা নয়, লুকিয়ে অনেকে আসছেন। শুধুমাত্র চিকিৎসা জন্য বা ভ্রমণের জন্য আসছেন ব্যাপারটা তেমনও নয়। তাই একটা আতঙ্ক থেকেই যায়। হোটেল ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, ‘হোটেল মালিকরা নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এটি বৈদেশিক ব্যাপার। পুরোটাই নির্ভর করে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির ওপর। কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে, রাজ্য সরকারকে সেটি মানতে হবে।’
