উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভ্যাপসা গরম আর মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির খামখেয়ালিপনায় জনজীবন বিপর্যস্ত। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে শরীরের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে, যার মধ্যে অন্যতম হল ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া। সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলি শরীরের জলীয় ভারসাম্য রক্ষা, পেশির কাজ, স্নায়ুর কার্যকলাপ এবং হৃদযন্ত্রের ছন্দ বজায় রাখতে অপরিহার্য। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে এই খনিজগুলি বেরিয়ে গিয়ে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি করতে পারে। অনেক সময় উপসর্গগুলি অস্পষ্ট হওয়ায় তা দেরিতে ধরা পড়ে, যা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ (Electrolyte Imbalance Signs)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রোলাইটের অভাবজনিত ৭টি লক্ষণ চিনে রাখা জরুরি:
পেশিতে টান: পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে পেশিতে হঠাৎ টান ধরা, আড়ষ্টতা বা কাঁপুনি অনুভূত হয়।
বমি ভাব: শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হলে গা গুলোনো বা বমি ভাব হতে পারে।
মনোসংযোগে অভাব: মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে খনিজ প্রয়োজন। এর অভাবে কাজে মন বসানো বা স্পষ্ট চিন্তাভাবনায় সমস্যা হয়।
অস্বাভাবিক তৃষ্ণা: জলশূন্যতা দেখা দিলে বারবার জল পিপাসা পায় এবং তৃষ্ণা যেন মেটেই না।
ক্লান্তি ও দুর্বলতা: শরীরে খনিজের অভাব হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বাসা বাঁধে।
মাথাব্যথা: পর্যাপ্ত অক্সিজেন মস্তিষ্কে না পৌঁছালে তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা হতে পারে।
বুক ধড়ফড়: ক্যালশিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাবে হৃদ্স্পন্দনের ছন্দ নষ্ট হতে পারে, যা বুক ধড়ফড়ানির কারণ।
শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত জল পানের পাশাপাশি ওআরএস (ORS) বা ডাবের জলের মতো পানীয় খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা অনুচিত। সুস্থ থাকতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

