সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, ডালাস: বিশ্বকাপ আর চোট-শব্দ দুটি যেন লাতিন আমেরিকার ফুটবলে এক অবিচ্ছেদ্য ট্র্যাজেডি! ফিলাডেলফিয়ায় হাইতিকে উড়িয়ে দিয়ে যখন ব্রাজিল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, ঠিক তখনই সেই আনন্দ-উৎসবে বিষাদের সুর বেঁধে দিল রাফিনহার চোট (Raphinha Damage)। কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি নিজেই জানিয়েছেন, বার্সেলোনা তারকার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট মোটেও ছোটখাটো নয়। হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচের ৪০ মিনিটেই দলের চিকিৎসক রডরিগো লাসমারের সঙ্গে খোঁড়াতে খোঁড়াতে তাঁর মাঠ ছাড়াটা কাতার বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত স্মৃতিগুলিই যেন নতুন করে উসকে দিয়েছিল।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিউ জার্সির এক চিকিৎসাকেন্দ্রে স্ক্যান করার পর রাফিনহার ডান পায়ের থাইয়ের পেশিতে চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চোটের গভীরতা বা টিয়ারের মাত্রা স্পষ্ট না করলেও, মেডিকেল দলের কড়া পর্যবেক্ষণে তাঁর রিহ্যাব শুরু হয়েছে। ২৪ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর খেলার কোনও সম্ভাবনাই নেই। বরং রাউন্ড অফ ৩২-এর আগে তাঁকে ফিট করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। কিন্তু বারবার একই জায়গায় চোট পাওয়ায় মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙেই পড়েছেন রাফিনহা। বার্সেলোনার হয়ে এই মরশুমে ডান পায়ের পেশির চোটের কারণেই প্রায় চার মাস মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। গত মরশুমের ৫৭টি ম্যাচের জায়গায় এবার খেলতে পেরেছেন মাত্র ৩৩টি ম্যাচ।
এই চোটের খবর স্পেনে পৌঁছাতেই বার্সেলোনা শিবিরেও ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। গত মার্চে বোস্টনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে গিয়েই পেশি ছিঁড়ে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন রাফিনহা। যার চড়া খেসারত বার্সাকে দিতে হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা ডেল রে-র সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে। এবারও তাঁর চোট গুরুতর হলে ক্লাব যে চুপ করে বসে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।
স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে নেইমারের ফিট হয়ে ওঠার খবরটা হয়তো মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো। কিন্তু ২০২৩ সালের পর থেকে বড় মঞ্চের বাইরে থাকা জাদুকর কতটা নিজের চেনা ছন্দে ফিরবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। চোটের অভিশাপ আর ফর্মের অনিশ্চয়তা-এই দুইয়ের জাঁতাকলেই আপাতত দীর্ঘ হচ্ছে আন্সেলোত্তির কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

