দুর্গাপুর: ভয়াবহ হড়পায় বিপর্যস্ত নেপাল (Nepal Flash Flood)। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই খোঁজ মিলছে না দুর্গাপুরের (Durgapur) দুই দম্পতির (Couple Lacking)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। সব মিলিয়ে রাজ্য থেকে নেপালে যাওয়া ৩২ জনেরও বেশি পর্যটকের এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা অরিন্দম গাঙ্গুলি ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমী গাঙ্গুলি। ডিভিসির এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা গত ২২ অগাস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ জনের পর্যটক দলের সঙ্গে নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তাঁদের মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের শেষ কথা হলেও বুধবার সকালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁদের ফোন আর পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়েই কাঁকসার মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর শুরু করেছে।
অন্যদিকে, একই বিপর্যয়ে নিখোঁজ দুর্গাপুরের আরও এক দম্পতি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (৬২) ও তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (৫৯)। ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপাল হয়ে মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের প্রাক্তন কর্মী দেবাশিসবাবু ও তাঁর শিক্ষিকা স্ত্রী। বুধবার সকালে বিপর্যয়ের ঠিক আগেই সকাল ৭টা নাগাদ শেষবার পরিবারের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়। ৯টা নাগাদ দুর্যোগের স্থানটিতেই তাঁরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার রাতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকেরা দম্পতির বাড়িতে গিয়ে নেপাল সরকারের দেওয়া দুটি হেল্পলাইন নম্বর তুলে দেন। নিখোঁজ দেবাশিসবাবুর মুম্বই নিবাসী কন্যা কাঠমাণ্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য উদ্ধারকার্য ও স্পষ্ট তথ্য পেতে আরও তিন-চারদিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
নেপালের এই বিপর্যয়কবলিত অঞ্চল থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া প্রায় ৩২ জনেরও বেশি পর্যটকের এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতি উদ্বেজনক রূপ নেওয়ায় উদ্ধারকার্য জোরকদমে চালানো হচ্ছে। বর্তমানে নিখোঁজ পর্যটকদের সুসংবাদের আশায় প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।

