অমৃতা দে, সিতাই: গ্রামের সীমানা পার করে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরেই ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত। তাই সারাবছর জীবন কাটে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর নজরদারি আর কড়া পাহারার সাক্ষী হয়ে। প্রান্তিক সেই গ্রামের পুজোতেও (Durga Puja 2026) এবার লাগল থিমের পরশ। সিতাই (Sitai) ব্লকের সীমান্তবর্তী কৈমারি ও চোরখানা গ্রামের পুজোর এবারের থিম ‘টোটোপাড়া’। পুতুল গড়ে পড়শি জেলা আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) এই অভিনবত্ব মণ্ডপে তুলে ধরা হচ্ছে রামকৃষ্ণ সংঘের পরিচালনায়।
শুধু পুতুল নয়। ডুয়ার্সের (Dooars) জল, জঙ্গল আর চা বাগানে ঘেরা পরিবেশে টোটো জনজাতির মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আগাগোড়া ফুটিয়ে তোলাই লক্ষ্য। সেজন্য পুতুল ছাড়াও থাকবে গাছপালা, পাহাড়, ঝরনা ও বন্যপ্রাণীর অবয়ব। সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে প্রকৃতির সঙ্গে টোটোদের নিবিড় সম্পর্ক এবং তাঁদের জীবনসংগ্রামের ছবি।
পুজো উদ্যোক্তাদের এই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন স্থানীয় শিল্পী কণ্ঠস্বর বর্মন। মাটি দিয়ে একের পর এক মূর্তি ও বিভিন্ন দৃশ্য তৈরি করছেন তিনি। মণ্ডপজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে টোটোপাড়ার পরিবেশ। রামকৃষ্ণ সংঘের সদস্যদের কথায়, টোটো জনজাতি দেশের অন্যতম প্রাচীন আদিবাসী সম্প্রদায়। তাঁদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এবারের এই উদ্যোগ।
পুজোর এখনও দিন দশেক বাকি। কৈমারি ও চোরখানা দুই গ্রামের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষা গ্রামে এবারের ‘টোটোপাড়া’ থিম দর্শনার্থীদের কাছে কতটা আকর্ষণ তৈরি করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে উদ্যোক্তা থেকে গ্রামবাসী। পুজো উদ্যোক্তা শিবু রায় বলেন, ‘দুই গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে আমরা এই পুজোর আয়োজন করি। গ্রামের প্রত্যেকেই চাঁদা দিয়ে পুজোয় অংশ নেন। চারদিন সকলে মিলে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠি।’

