শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: মাদক মামলায় (Drug case) অভিযুক্তদের জামিন পাইয়ে দিতে হাইকোর্টে নথি গোপন ও বিকৃতির অভিযোগের তদন্তে সিআইডি (CID)’র নজরে তৃণমূল আমলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন প্রাক্তন সরকারি আইনজীবী। ইতিমধ্যেই মামলা ধরে ধরে সেই আইনজীবীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। শুধু ভূমিকা খতিয়ে দেখাই নয়, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সম্পত্তির পরিমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ফলে ঘুম উড়েছে কয়েকজনের।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের রাডারে থাকা ওই আইনজীবীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই নিজেদের বাঁচাতে বিজেপির (BJP) দু-তিনজন আইনজীবী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। গোপনে যোগাযোগ রাখছেন রাজ্য বার কাউন্সিলের এক সদস্যের সঙ্গেও। সম্প্রতি কলকাতায় বৈঠকও করেছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, মাদক মামলার জামিন দুর্নীতিতে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা, দিনহাটা এবং শিলিগুড়ির কয়েকজন আইনজীবী সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য পেয়েছেন সিআইডি’র তদন্তকারীরা।
মামলার সাক্ষী হিসাবেও কয়েকজনের বয়ান নিয়েছেন তাঁরা। সেই সাক্ষীরা একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন সিআইডি-কে। কীভাবে নথি জালিয়াতি হত তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তদন্তকারীদের কাছে৷ আপাতত তাঁরা প্রমাণ জোগাড় করছেন। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক, মাদক মামলার তদন্তকারী এবং গ্রেপ্তারকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তাতে কেস ডায়েরিতে কারচুপির ব্যাপারটি স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁরা৷ তদন্তকারীরা মোটামুটি নিশ্চিত, তৎকালীন সরকারি আইনজীবীদের যোগসাজশ ছাড়া কোনওভাবেই আদালতে নথি পেশ করা সম্ভব ছিল না।
কোন মামলায় কী নথি আদালতে পেশ করা হয়েছিল, কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত ছিল এবং সেই ঘাটতির সুবিধা অভিযুক্তরা কীভাবে পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করছেন তদন্তকারীরা। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ঘনিষ্ঠ দুই আইনজীবীও সিআইডি’র রাডারে রয়েছেন। কোথায় কোথায় সেই দুই আইনজীবীর সম্পত্তি রয়েছে তার তালিকাও তৈরি করে ফেলেছেন তদন্তকারীরা। মামলা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের আরও কয়েকটি যোগসূত্র মিলেছে বলেই খবর।
মাদক পাচারকারীদের তিনটি সিন্ডিকেটের খোঁজ পেয়েছে সিআইডি, যারা অভিযুক্তদের জামিনের জন্য মোটা টাকা খরচ করত। সেই পাচারকারীদের দুটি সিন্ডিকেট পরিচালিত হয় কোচবিহার জেলা থেকে। অন্যটির ঘাঁটি মালদা। জামিনের জন্য কাকে, কোথায়, কত টাকা দেওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।

