Dinhata | ভোট পরবর্তী আতঙ্কে থমথমে দিনহাটা! ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ীরা

Dinhata | ভোট পরবর্তী আতঙ্কে থমথমে দিনহাটা! ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ীরা

শিক্ষা
Spread the love


দিনহাটা: পরিবর্তন ঘটেছে রাজ্যের মসনদে। ভোট পরবর্তী সেই রেশ এবার ধরা দিচ্ছে শহরের চেনা ছন্দে। পরিবর্তনকে গ্রাস করেছে এক অজানা আতঙ্ক। একসময়ের প্রাণোচ্ছল, ব্যস্ত শহর আজ অনেকটাই নিস্তব্ধ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিচিত সেই কোলাহল, আড্ডা আর মানুষের ভিড়-সবকিছুতেই এখন স্পষ্ট পরিবর্তনের ছবি।

আগে বিকেল নামলেই শহরের বিভিন্ন পার্ক, বিশেষ করে মদনমোহন বাড়ি পুকুর-সংলগ্ন পার্ক কিংবা ফুলদিঘির পার্কে মানুষের ভিড় লেগে থাকত। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও সময় কাটানোর অন্যতম জায়গা ছিল এই এলাকাগুলি। সন্ধ্যা হলেই শহরের মোড়ের ফুচকা, চপ, চায়ের দোকান কিংবা ছোটখাটো খাবারের দোকানগুলি জমে উঠত আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই চেনা ছবিতে ধরা দিচ্ছে সন্ধ্যা নামার আগেই অনেকের বাড়ি ফেরার, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর প্রায় ফাঁকা হওয়ার অচেনা দৃশ্য।

কিন্তু কেন নিষ্প্রভ শহরের ছন্দ? প্রশ্ন উঠতেই স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই আতঙ্ক একেবারে নতুন নয়। শহরবাসীর স্মৃতিতে ফিরছে ২০২১-এর ভোট পরবর্তী সময়ে দিনহাটাজুড়ে হিংসা, ভাঙচুর এবং উত্তেজনার পরিবেশ। সেই প্রভাব এখনও মানুষের মনে স্পষ্টভাবে রয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। তাই এবারের ভোট মিটে গেলেও অনেকেই এখনও প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। দিনহাটার বাসিন্দা রমেন রায় বলেন, ‘আগের ভোটের পর যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা এখনও মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। তাই অনেকেই এখনও স্বাভাবিকভাবে বেরোনোর সাহস পাচ্ছেন না।’

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজিতেও। ছোট ব্যবসায়ী থেকে খাবারের দোকান- সব ক্ষেত্রেই বিক্রি কমেছে। সন্ধ্যার পর বাজার এলাকায় ক্রেতার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কম বলে জানাচ্ছেন দোকানিরা। দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, ‘ভোট ও ভোট পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। মানুষও সম্ভবত একটা ভয়ের মধ্যে রয়েছে। তবে আশা করছি, খুব দ্রুত এই পরিস্থিতি বদলে মানুষ আবার আগের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।’ দিনহাটার চওড়াহাট এলাকার ব্যবসায়ী গোবিন্দ সাহার কথায়, ‘ভোটের পর বাজারে একটা থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়নি। তাঁদের মতে, এমন নেতৃত্ব দরকার যাঁরা এলাকায় গিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বার্তা দেবেন। ব্যবসায়ী সমিতির তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানাবেন। এই আতঙ্কের আবহ কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আবার পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্যে ফেরার আশায় শহরবাসী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *