দিনহাটা: ৯৬ বছর বয়স। এই বয়সে এসে যে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে হবে তা দিনহাটা-১ ব্লকের বড় আটিয়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নিখিলচন্দ্র সরকার কোনওদিন ভাবেননি। ইতিমধ্যে দু’বার মেজর স্ট্রোক হয়েছে। একদিকে বয়সের ভার অপরদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো হাঁটা তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারেন না। বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে তিনি রবিবার দিনহাটা-১ বিডিও’র দপ্তরে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে আসেন। ৮৫ বছরের স্ত্রী আভা সরকার এবং ছেলে নিমাই সরকার তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
শীতে একপ্রকার জবুথবু হয়ে কাঁপতে কাঁপতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিখিলবাবু শুনানিতে এসেছিলেন। প্রমাণপত্র হিসেবে শুনানির নোটিশ এবং ৯৫ সালের ভোটার কার্ড হাতে ছিল। কী কারণে এদিনের শিবিরে এসেছেন বলে নবতীপর মানুষটিকে প্রশ্ন করা হলেও তাঁর আধো আধো বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝা যায়নি। তবে মন খারাপের পাশাপাশি তিনি যে বেশ ক্ষুব্ধ তা স্পষ্ট টের পাওয়া গিয়েছে। ছেলে নিমাই বলেন, ‘বাবার কাছে ৯৫ সালের ভোটার কার্ড রয়েছে। এর আগে যতগুলি ভোট হয়েছে সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বাবা সেগুলিতে শামিল হয়েছেন। কিন্তু এসআইআর ঘোষণার পর কমিশন ২০০২ সালের যে ভোটার তালিকা আপলোড করেছে, সেই তালিকায় বাবার নাম না থাকায় আমাদের আজ এই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।’ নিমাই বলে চলেছেন, ‘অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আজ প্রশাসনের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছি। এখন দেখি কী হয়!’ বয়স্কদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানির ব্যবস্থা করা উচিত বলে নিমাইয়ের দাবি।
নিখিল-ঘরনি বললেন, ‘শুনানির জন্য কাগজ এসেছে। অন্য কোনও উপায় না থাকায় স্বামীকে নিয়ে বিডিও’র দপ্তরে আসতে হল।’ তাঁর কথায়, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার বাসিন্দা। তা সত্ত্বেও কী কারণে শুনানির কাগজ এল বুঝতে পারছি না। আমাদের মতো আর কাউকে যাতে সমস্যায় না পড়তে হয় সেজন্য প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এদিন অনেককেই আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকায় অনেকে সরবও হন। মহকুমা শাসক ভারত সিংকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি সাড়া না দেওয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
