Cooch Behar | ‘ভোগান্তির’ নাম এসআইআর, ছেলে বিএলও, মা আনম্যাপড

Cooch Behar | ‘ভোগান্তির’ নাম এসআইআর, ছেলে বিএলও, মা আনম্যাপড

ব্লগ/BLOG
Spread the love


কোচবিহার: এসআইআর-এর শুনানিতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েই চলছে। অভিযোগের তালিকা অনেক লম্বা।

রমা বড়ুয়া কোচবিহার শহরের শান্তিকুটির ক্লাব এলাকার ১৭৭ নম্বর বুথের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে রাজদীপ ওই বুথের বিএলও। রাজদীপ নিজের হাতে মায়ের এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করেছেন। তার পরেও শুনানিতে ডাক আসায় রমা বেশ অবাক হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী বিএসএফে চাকরি করতেন। ওঁর চাকরির জন্য আমাদের দুজনকেই বাইরে বাইরে থাকতে হত। ফলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার স্বামী এবং আমার নাম নেই। আমার স্বামী মারা গিয়েছেন। ওঁর পেনশন অর্ডারে (পিপিও) আমার নাম নেই। তবে ওঁর সঙ্গে আমার জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট আছে। আমার বাবা ১৯৮৪ সালে মারা গিয়েছেন। তবে আমার মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে। মায়ের নামের লিংকেজ দিয়েই আমি এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলাম। ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রেও যে কোনও ভুল হয়েছে সেটাও নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমার ছেলেই আমার বুথের বিএলও। ছেলেই আমার ফর্ম পূরণ করেছে। কিন্তু তার পরেও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল সেটা বুঝতে পারছি না। ভীষণ সমস্যায় পড়েছি।’

রমার সমস্যা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়। এসআইআর-এর শুনানিতে এই মহকুমার ৬৭ হাজার আনম্যাপড ভোটারকে ডাকা হয়েছে। একটু কান পাতলেই শুনানি নিয়ে মানুষের বিভিন্ন অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে। পপি ইন্দ্রও এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কোচবিহার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্টু দাশগুপ্তপল্লি এলাকার বাসিন্দা। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে আমার নাম তো আছেই। আমার বাবা-মায়ের সবার নামও আছে। তার পরেও আমাকে কেন শুনানিতে ডাকা হল, বুঝতে পারছি না।’

মহকুমা শাসকের দপ্তরে রবিবার আনম্যাপড ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ল। এদিন শুনানির লাইনে রবি এবং রঞ্জিত সাহা দাঁড়িয়েছিলেন। রঞ্জিত সম্পর্কে রবির বাবা। রবি বলেন, ‘কোনও এক অজানা কারণে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে আমার বাবার নাম নেই। কিন্তু বাবার কাছে ১৯৯২ সালের ব্যাংকের পাসবই আছে। ১৯৯২-’৯৩ সালের জমির পাট্টার কাগজ রয়েছে। তার পরেও আমাদের শুনানিতে ডেকেছে। আধিকারিকরা বলছেন, এই কাগজগুলো দিয়ে কাজ হবে না। এখন কী করব কিছু বুঝতে পারছি না।’

সরকারি চাকরিজীবীরাও ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে গুঞ্জবাড়ির বাসিন্দা জ্ঞানেন্দ্র চক্রবর্তী হতাশ গলায় বলেন, ‘রেলে চাকরি করতাম। কর্মসূত্রে ২০০২ সালে এলাকার বাইরে ছিলাম। ফলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই। বাবা-মা ২০০২ সালের আগেই মারা গিয়েছেন। এখন আমি ও আমার ছেলে দুজনেই শুনানিতে ডাক পেয়েছি।’ সবমিলিয়ে এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পাওয়া আনম্যাপড ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *