দিনহাটা: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। দিনহাটা মহকুমায় নিশীথের এই নিষ্ক্রিয়তায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে সেই নিশীথকেই বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপরেও দিনহাটায় বিজেপির সাংগঠনিক কার্যকলাপ তেমন দেখা যায়নি। দলের কর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনহাটার বাবুপাড়ায় বিজেপির জেলা সম্পাদক অজয় রায়ের বাড়িতে উপস্থিত হলেন নিশীথ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরী। সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের বৈঠক চলে।
বিজেপির জেলা সম্পাদক অজয় রায় এ বিষয়ে বলেন, ‘এটি মূলত একটি পারিবারিকভাবেই বসা। তবে আমরা সকলেই যেহেতু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাই ঘরের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কিছু সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে।’ কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর এল, ‘ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’
বৈঠকে হওয়া আলোচনার বিষয় নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে নারাজ। তবে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৈঠক শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে নয়, বরং দিনহাটা মহকুমায় বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের পর দলের মধ্যে যে সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, তা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়েও নাকি আলোচনা করেন নিশীথরা। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের নীচুতলার সংগঠনকে আরও সক্রিয় এবং শক্তিশালী করার উপায় নিয়েও মত বিনিময় হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে দিনহাটা মহকুমায় বিজেপির হারিয়ে যাওয়া সাংগঠনিক গতি ফেরাতেই হয়তো এই বৈঠক। দীর্ঘদিন পর নিশীথ প্রামাণিকের দিনহাটায় উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা জাগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই বৈঠকের বাস্তব প্রভাব আগামীদিনে মাঠের রাজনীতিতে কতটা পড়ে।
অন্যদিকে, তৃণমূল অবশ্য এই বৈঠককে পাত্তা দিতে নারাজ। দলের দিনহাটা শহর ব্লক সহ সভাপতি সাবির সাহা চৌধুরীর কটাক্ষ, ‘নিশীথের ঘরের ভেতরেই মিটিং শেষ, বাইরে বেরিয়ে জনসাধারণের মুখোমুখি হওয়ার মুখ নেই। দিনহাটায় বিজেপির সংগঠন নেই, কারণ বিজেপির ওপর মানুষের ভরসা নেই।’ তাই দিনহাটায় বিধানসভায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আশাবাদী সাবির।
