অমৃতা দে, দিনহাটা: স্বনির্ভরতার স্বপ্ন আর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রকল্প। দিনহাটা-১ ব্লকের (Dinhata) পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতে গড়ে উঠছিল জমাদারবস ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনকাম এনহ্যান্সমেন্ট হাব। পর্যটকদের কাছে নতুন এক আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারত এটি। চা থেকে শুরু করে রকমারি খাবারের দোকান, নৌকাবিহার সবই ছিল পরিকল্পনার অংশ। অন্যদিকে, আয়ের রাস্তাও খুঁজে পেতেন অনেক মানুষ। প্রায় পাঁচ কোটি টাকার স্বপ্নের প্রকল্প আজ যেন অচল ঘড়ির কাঁটা। জমাদারবস লুথেরাস চার্চের পাশের সাত বিঘা জমি থেকে ইকো পার্কের নির্মাণকাজের শব্দ আর শোনা যায় না। বরং এলাকাটি ঢেকেছে আগাছায়।
২০২৩ সালে এমজিএনআরজিএ ও আরজিএসএ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হতে থাকা ইকো ট্যুরিজম পার্কের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। তবুও দু’বছরে প্রকল্পের উদ্বোধন হয়নি। ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পের ঘর, পুকুর, পার্কিং জঙ্গলের রূপ নিয়েছে। নষ্ট হচ্ছে রং। সরকারি অর্থের অপচয়ও হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক মনোজ বর্মার দাবি, ‘টেন্ডারের অর্থ অনুযায়ী কাজ শেষ। কিন্তু এমজিএনআরজিএ বা জেলা পরিষদের অতিরিক্ত ফান্ড পাওয়ার কথা থাকলেও তা মেলেনি বলে বাকি কাজ আটকে রয়েছে। তবে অতি দ্রুত হাব উদ্বোধন হবে।’ কিন্তু এই প্রশাসনিক জটিলতায় অসহায় অবস্থা স্থানীয়দের। হতাশ সুরে তাঁদের ক্ষোভ, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ বদলাতে প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা হবে কবে!’ কোচবিহার জেলার প্রথম বড় ইকো ট্যুরিজম ও অর্থোন্নয়ন হাব হয়ে ওঠার কথা ছিল জমাদারবস। দিনহাটার পর্যটন মানচিত্রে এর বিশেষ প্রভাব পড়তে পারত।
পাশাপাশি গ্রামের পিছিয়ে পড়া মহিলাদের স্বনির্ভর করাও ছিল প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এখন ভালো সময়ের আশা প্রায় ছাড়তে বসেছেন সকলে। গত দুই বছর ধরে উত্তরহীন একটি প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে, হাবের উদ্বোধন কবে হবে? স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য উইলসন বেসরা জানান, হাবটি প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রকল্প ছিল। তার মধ্যে দেড় কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তাঁদের স্বপ্ন ছিল, কোনওদিন নিজের হাতে বানানো পণ্যের দোকান তৈরি হবে। স্থানীয় এক মহিলা ভারতী সাংমা ভাঙা গলায় বললেন, ‘ভেবেছিলাম পার্ক খুললে সংসারে সকলের মুখে হাসি ফোটাতে পারব, রোজগার হবে। এখন মনে হচ্ছে সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।’
অন্যদিকে, সংলগ্ন চার্চ কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে প্রকল্পটির জন্য জমি দিয়েছিল। চার্চের দায়িত্বে থাকা রঞ্জিত সাংমার কণ্ঠেও সেই একই দীর্ঘশ্বাস। শর্তসাপেক্ষে জমি দিলেও, কাজ থেমে যাওয়ায় চার্চও অস্বস্তিতে পড়েছে। রঞ্জিত জানান, উন্নয়নের আশায় জমি দিলেও এখন সেখানে শুধু প্রকল্পের ছায়া রয়েছে, কোনও বাস্তব রূপ নেই।
