প্রবল বিরোধী আপত্তির মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল ২০২৬ (Transgender Individuals (Safety of Rights) Modification Invoice, 2026)। সংশোধিত বিল অনুসারে কোনও ব্যক্তি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নিজেকে রূপান্তরকামী ঘোষণা করতে পারবেন না। রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার তকমা পেতে গেলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। বিলের এই বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। কে বা কারা ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তিকে ‘রূপান্তরকামী’ শংসাপত্র দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও মঙ্গলবার ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল বিলটি। এখনই অবশ্য তা আইনে পরিণত হচ্ছে না। এর জন্য রাজ্য়সভায় পাশ হতে হবে বিলটিকে। এর পর লাগবে রাষ্ট্রপ্রতির অনুমোদন তথা স্বাক্ষর।
ট্রান্সজেন্ডারদের একাধিক সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সংশোধিত বিল আপত্তি করলেও বারেবারে পালটা যুক্তি দিয়েছে কেন্দ্র। এদিন বিতর্কের জবাবে এদিন সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার বলেন, এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য হল জৈবিক কারণে বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের আইনি স্বীকৃতি অব্যাহত রাখা। মন্ত্রকের আরও বক্তব্য, রূপান্তরকামী হিসেবে কারা পরিচিত হবেন তার কোনও সংজ্ঞা নেই। ফলে ভুয়ো রূপান্তরকামীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রকৃত রূপান্তরকামীরা বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধা পেতে। এই বিলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে জরিমানার পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর থেকে বাড়িয়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে রূপান্তরকামী সংগঠনের অভিযোগ, এই সংশোধনীর মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলে অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এই বিল লিঙ্গ স্বীকৃতির বিষয়টিকে সহজ করার পরিবর্তে দিনের শেষে আরও জটিল করে তুলছে। উলটে তাঁদের মৌলিক অধিকারকেই খর্ব হচ্ছে। মঙ্গলবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে যুক্তি দেয়, এই বিল আত্মপরিচয়ের অধিকার খর্ব করেছে। লোকসভা ভোটাভুটির আগে বিলটিকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো উচিত ছিল। যদিও যাবতীয় আপত্তি উড়িয়ে লোকসভায় পাশ হয়ে গেল রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল ২০২৬।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
