দিনহাটা: আজ ছটপুজো। ওইদিন ছটব্রতীরা ভিড় জমাবেন শহরের নানান ছটঘাটে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন সমস্ত উৎসবেই লেগেছে ‘অ্যাস্থেটিকস’-এর ছোঁয়া। ছট উপলক্ষ্যে ব্রতীরাও এখন পুজোর অর্ঘ্য সাজিয়ে নিয়ে যাওয়ার ডালি, কুলো সাজাতে ব্যস্ত। ডালি, কুলোকে দর্শনীয় করে তুলতে ছটব্রতীরা ভিড় জমাচ্ছেন শহরের ফুলের দোকানগুলিতে। একটা সময় ছিল যখন সাদামাঠাভাবে ছটের ডালি বা কুলো সাজাতেন। কিন্তু এখন আর সেই যুগ নেই। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ডালি বা কুলোর সৌন্দর্যায়ন আবশ্যিক। তাই ডালি বা কুলো যাতে দর্শনীয় হয় তার জন্য সেগুলো সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নানারকমের ফুল ও রঙিন কাগজ দিয়ে। ইতিমধ্যেই ছটব্রতীরা ফুলের দোকানে গিয়ে ডালি দিয়ে আসছেন। আর কীভাবে সাজাতে হবে সেই নির্দেশও দিয়ে আসছেন।
বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে ডালি ও কুলো সাজানোর ট্রেন্ড। ফুল ব্যবসায়ী লক্ষ্মণ সাহা বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে বদলেছে উৎসবের সংজ্ঞা। সমাজমাধ্যেমের যুগে মানুষ উৎসব উদযাপন করার চেয়েও সেটা দেখাতে বেশি ভালোবাসেন। এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি ছটও।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই ট্রেন্ড চালু হওয়ায় আমাদের লাভই হয়েছে। এর ফলে ছটের সময় আমাদের ক’টা টাকা বেশি উপার্জন হয়।’ শুধু লক্ষ্মণ নন শহরের অন্যান্য ফুলের দোকানদারও এর ফলে লাভের মুখ দেখেন। শহরের বিভিন্ন ফুলের দোকান এখন ছটব্রতীদের ডালি সাজানোর অর্ডার নেওয়ার ব্যস্ততা। আরেক ফুল ব্যবসায়ী তাপস সরকার বলেন, ‘কীভাবে সাজানো হবে সেই অনুযায়ী দাম ঠিক হয়। ডালি বা কুলো সাজানোর দর ৩০০-১০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।’
ছটব্রতী দীপক রায় বলেন, ‘প্রতি বছর ডালি সাজিয়ে ঘাটে যাই। এবারও তাই যাব। ডালি সাজানোর জন্য ভরসা শহরের ফুলের দোকানগুলিই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে বাড়িতেই ডালি সাজানো হত। বর্তমানে সময়ের অভাবের জন্যই আমি এবং আমার মতো আরও অনেকে দোকানে ডালি সাজাতে দেন।’
আরেক ছটব্রতী দীপা রায় অবশ্য কুলো নিজেই বাড়িতে সাজিয়েছেন রং আর তুলি দিয়ে। তিনি বলেন, ‘নিজে কুলো সাজালে আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করে। তাই এই চেষ্টা।’
সোমবার বিকেলে দিনহাটা ছটপুজো কমিটির উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা ঝুড়িপাড়া থেকে দিনহাটা থানা দিঘি ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। একইরকমভাবে মঙ্গলবার ভোরেও ঊষার্ঘ্য উপলক্ষ্যে ভোরবেলায় একটি শোভাযাত্রা ঘাটের উদ্দেশে যাবে বলে কমিটির তরফে উদ্যোক্তা বিনোদ রজক জানিয়েছেন।
