উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এক রাতের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরের বহু জেলা। সেই আবহেই আজ সোমবার নাগরাকাটার বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজে আরও ৪ টি দেহ উদ্ধার হল। এই নিয়ে বামনডাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। উত্তরবঙ্গে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ৩২ ছুঁয়েছে। আরও কিছু মৃতদেহ উদ্ধার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ যাদের দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁদের নাম, মঞ্জু নায়েক (২৫), নিভৃতি নায়েক (৬), এতোয়ারি ওরাওঁ (৫৫) ও সুকান্ত ওরাওঁ (৫০)। মৃতেরা সকলেই বামনডাঙ্গার মডেল ভিলেজের বাসিন্দা। উল্লেখ্য, এই বামনডাঙ্গাতেই আজ দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই নাগরাকাটায় পৌছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজের বাসিন্দা ৫ মৃতের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদের পরিবারের হাতে এই অর্থ সাহাজ্য তুলে দেওয়া হল তাঁরা হলেন, শানচারোয়া ওরাওঁ, কস্তু লোহার, রাধিকা লোহার, শিল্পা মুন্ডা ও নিশা নাগাশিয়া।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতের বৃষ্টিতে জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয় বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজের বাসিন্দা এক শিশু সহ কমপক্ষে ৫ জনের। প্রসঙ্গত, বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজ ছাড়াও চা বাগানের ১৮ নম্বর লাইন, বিচ লাইন ও হাতি লাইন এর মত শ্রমিক মহল্লাগুলিতে এদিন জল ঢুকে যায়। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় জল জমে যায় বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজে। এই গ্রামে বাস ৫০০ পরিবারের। কোমর সমান জল জমে যাওয়ায় আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা। বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে সক্ষম হলেও বহু মানুষ জলের তোড়ে ভেসে যায়। এতেই প্রাথমিকভাবে ৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই আবহেই আজ উদ্ধার হল আরও ৪ টি দেহ।
