Cooch Behar | মালতী-উৎপলের সৌজন্যের রাজনীতিতে ক্ষুব্ধ পদ্ম কর্মীরা

Cooch Behar | মালতী-উৎপলের সৌজন্যের রাজনীতিতে ক্ষুব্ধ পদ্ম কর্মীরা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


বক্সিরহাট: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘সৌজন্যের ছবি’ এখন কোচবিহারের রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তা ঘিরে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের ঝড় বইছে। আবার, অনেকে ভোট অঙ্ক করে নতুন সমীকরণের জল্পনাও আঁটছেন।

সম্প্রতি তুফানগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক মালতী রাভা এবং তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ের পাশাপাশি বসে খিচুড়ি খাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। তা নিয়ে কোচবিহারের রাজনীতিতে চর্চা উঠেছিল তুঙ্গে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার রাতে আরেকটা ছবি ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তুফানগঞ্জে এক কালীপুজোর অনুষ্ঠান মঞ্চে তৃণমূলের নেতাদের পাশে বসতে দেখা যায় বিজেপির জেলা সহ সভাপতি উৎপল দাসকে। নীচুতলার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিদিন দলের কর্মীরা তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন, বাড়িঘর লুটপাট চলছে, তখন তুফানগঞ্জে দলের বড় নেতা-নেত্রীরা কেন তৃণমূলের সঙ্গে খোশমেজাজে খাওয়াদাওয়া করছেন, কী উদ্দেশ্যে? অন্যদিকে, তৃণমূলও সুযোগ হারাতে নারাজ। বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পিছিয়ে নেই তারা।

কোচবিহারের রাজনীতিতে সৌজন্য আজ ডুমুরের ফুলের মতোই বিরল। সংঘর্ষ, হানাহানি আর রাজনৈতিক হিংসা প্রতিদিনই সংবাদ শিরোনামে। সেখানে তৃণমূল-বিজেপি দুই প্রতিপক্ষকে এক মঞ্চে দেখা নিঃসন্দেহে বিরল দৃশ্য। কিন্তু সেই ‘বিরলতা’ই এখন তুফানগঞ্জে বিজেপির অন্দরে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের বিধায়কের খিচুড়ি খাওয়া ও জেলা সহ সভাপতির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসার ছবি রবিবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিজেপির এসটি মোর্চার জেলা সহ সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সদস্য সুমন বর্মন লেখেন, ‘এমন হওয়া কাম্য নয়। নীচুতলার কর্মীরা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন আমরা সৌজন্য দেখালে কর্মীদের মনোবল ভাঙে।’

তিনি বলেন, একদিকে আমাদের কোকনভেনার তৃণমূল দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন, প্রতিদিনই দলীয় পার্টি অফিস ও কর্মীদের বাড়িঘরে লুট চলছে। অন্যদিকে কেউ খিচুড়ি ভোজে, কেউ বা তৃণমূলের মঞ্চে! এটা লজ্জাজনক। উদ্দেশ্য একটাই, দলে টিকিট না পেলে আগেই তৃণমূলে নাম লিখিয়ে রাখার জন্য এই সৌজন্য। যদিও বিধায়ক মালতী রাভা মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি উৎপল দাসের যুক্তি, ‘তৃণমূলের মঞ্চে আমি উঠিনি। নাগুরহাটে ভারত যুব সংঘ ক্লাবের কালীপুজোর মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সভাপতি আমি। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই সেখানে ছিলাম, তৃণমূলের মঞ্চে নয়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে চলেছে তুফানগঞ্জ। ২০২১-এ আসনটি ঘাসফুলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনে তৃণমূল জিতলেও তুফানগঞ্জে হেরে যায়। তাই এবার ঘাসফুল শিবিরের লক্ষ্য তুফানগঞ্জ দখল।

তবে বিজেপির ভেতরেই চলছে ঠান্ডা লড়াই। মালতী রাভা ও উৎপল দাস, দুজনে তুফানগঞ্জ বিধানসভায় দলের মুখ। কিন্তু পদ্ম শিবিরের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায় তাঁদের হিমশীতল সম্পর্ক। আলাদা লবি করে রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ। তাই এক মঞ্চে বিজেপির বিধায়ক ও জেলা সহ সভাপতিকে দেখা পাওয়া প্রায় বিরল দলের কর্মীদের কাছে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই বিভাজনই তুফানগঞ্জে বিজেপির সংগঠনকে দুর্বল করে তুলেছে। সুযোগ বুঝে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক।

যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, কোন পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে কীভাবে তাঁদের দেখা হয়েছিল সেটা আমার জানা নেই। সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে আমার কিছু বলার নেই।

তবে, মালতী–উৎপলের এই ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ শেষপর্যন্ত কৌশল না কৌশলের ফাঁদ, সেটাই এখন তুফানগঞ্জের রাজনীতিতে বড় প্রশ্নচিহ্ন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *