উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার আক্রান্ত হলেন মমতার তৃণমূলের পরিচিত মুখ তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় এবং রবিবার নিজের নির্বাচনী এলাকা বেলেঘাটায় পরপর আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। জীবননাশের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সরাসরি গেরুয়া শিবিরের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন কুণাল। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর মতে, ‘খবরে থাকার জন্য জেনেবুঝেই এই কাজগুলি করেন কুণাল ঘোষ।”
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। শ্রীরামপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় তাঁর কনভয় ও গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। বিধায়কের দাবি, ইট, রড ও ডিম ছুড়ে তাঁকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয় এবং হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নেত্রীর সভায় যাওয়া বন্ধ করা। সেই সময় স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
এই রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের আক্রান্ত হন কুণাল ঘোষ। ফুলবাগান এলাকায় ১৫-২০টি বাইকে চেপে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে পথ আটকায়। বিধায়কের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে রিভলভার ও হাতুড়ি ছিল। গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁর জামার কলার ধরে গাড়ি থেকে টেনে বের করারও চেষ্টা হয়। কুণাল ঘোষের আশঙ্কা, রবিবার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। তবে সমস্ত হুমকিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি আগামী দিনেও রাজপথে মানুষের পাশেই থাকবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এবিষয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “কুণাল ঘোষ জেনেবুঝে মানুষকে উস্কায় যাতে ওঁর উপর হামলা হয়। খবরে থাকার জন্যই এসব পরিকল্পনা করেন।” এছাড়া সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশেও তাঁর মন্তব্য, “আপনারাই সুযোগ দেন, তাই বারবার ওঁ এই অভিযোগগুলি করে।”
বিধায়কের ওপর এই দফায় দফায় সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘১৮ ঘণ্টার কম সময়ের ব্যবধানে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর বারবার এই ধরণের সশস্ত্র হামলা অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের প্রশ্ন, দল পরিবর্তন করতে অস্বীকার করার অপরাধেই কি একজন জনপ্রতিনিধিকে এমন সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের নিশানা হতে হচ্ছে? নির্বাচিত প্রতিনিধির নিরাপত্তা যদি এই স্তরে ভেঙে পড়ে, তবে রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনার দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও মূল অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে রাজ্যপাল আর. এন. রবির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিষেক। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

