বর্ধমান: ধর্মান্তকরণের অভিযোগ তুলে যীশু খ্রীষ্টের একটি প্রার্থনা সভায় চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, মারধর এবং মহিলাদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠল বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সঙ্গে যুক্ত একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে (Burdwan Conversion Controversy)। শুধু তাই নয়, প্রার্থনাকারীদের রাস্তায় নামিয়ে কান ধরে ওঠবস করানোরও অভিযোগ উঠেছে। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার বিজয়রাম এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় ‘অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর বর্ধমান শাখার পক্ষ থেকে বর্ধমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্মান্তকরণের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির বিজয়রাম নেড়োদিঘী এলাকার ‘গোপাল ভবনে’ যীশু খ্রীষ্টের প্রার্থনা সভা চলছিল। সেই সময় বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপির কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে ওই প্রার্থনা গৃহে চড়াও হন। অভিযোগ, প্রার্থনা সভা চলাকালীন তারা সভাকক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং উপস্থিত লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। এমনকি বেশ কয়েকজনকে রাস্তা নামিয়ে জোর করে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। মহিলাদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
‘অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর পক্ষে ঋতম দে, চন্দ্রা সাউ ও সংগীতা দাস থানায় অভিযোগে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা মারধর ও ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ-সহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। হামলাকারীদের দাবি ছিল, ওই সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক লোভ দেখিয়ে ও বিদেশ থেকে টাকা এনে গরিব সনাতনীদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন ঋতম দে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বজরং দল ও বিজেপি। ভিএইচপির যুব সংগঠন বজরং দলের সদস্য ইন্দ্রনীল সাঁইয়ের পাল্টা দাবি, গরিব মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে যীশুর প্রার্থনার নামে সনাতনীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চলছিল। সেই খবর পেয়েই তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে জানান, দল এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তার জন্য প্রশাসন ও আইন রয়েছে, কিন্তু কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। প্রার্থনাস্থলে ঢুকে হামলা চালানো সম্পূর্ণ অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

