উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোচবিহারের মাটি থেকেই পরিবর্তনের ডাক দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে হারের ক্ষত মুছে ফেলে এবার বিধানসভার সবকটি আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করলেন তিনি। শনিবার কোচবিহারে কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ (BJP Chief Dilip Ghosh) বলেন, ‘কোচবিহারের মানুষ এবার পুরোটা বদলে দেবে। সব কয়টা আসনেই জিতবে বিজেপি।’
লোকসভা নির্বাচনে নিশীথ প্রামাণিকের হারের পর কোচবিহারে (Cooch Behar) দলের জমি উদ্ধার করাই এখন বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের কলকাতা সফরের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন দিলীপ ঘোষ। শনিবার কোচবিহারে ‘চায়ে পে চর্চা’-য় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোচবিহারে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজেপির উত্থান হয়েছে। এখানকার মানুষ আমাদের এমএলএ, এমপি দিয়েছে। পঞ্চায়েতেও আমরা জিতেছি। লোকসভায় মানুষ কিছুটা করেছিলেন, কিন্তু এবার বিধানসভায় পুরোটা পালটে দেবেন। আমরা সমস্ত এমএলএ সিট জিতব।’
কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পশ্চিম বাংলায় কোনও কিছুই সুরক্ষিত নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজে গিয়ে ফাইল ছিনিয়ে আনলেন। তৃণমূল নেত্রী হিসেবে তাঁর দায়বদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সরকারি আধিকারিকরা কেন তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন?’ প্রশাসনের এই ‘রাজনৈতিক ব্যবহার’ নিয়ে সরব হন তিনি।
রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি সবসময় কর্মীদের পাশেই আছেন। চব্বিশ ঘণ্টা পথে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি পথেই ছিলাম, পথেই আছি। কর্মীরা লড়াই করছে, আমি তাঁদের দেখতে এসেছি।’ রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পদত্যাগ এবং কোচবিহারে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রদবদলের মধ্যেই দিলীপ ঘোষের এই চড়া সুর এবং ‘সব আসন জয়ের’ দাবি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
