উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: একদিকে যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-র (Amit Shah) রাজ্য সফরকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপিতে সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই দলের অন্দরে কোণঠাসা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)! বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনে ন্যাশনাল লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে বিজেপি নেতাদের পুনর্মিলন উৎসব। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই সভায় ডাক পেলেন না দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। দলের এক সময়ের ‘পোস্টার বয়’-কে কেন এভাবে সরিয়ে রাখা হল, তা নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও জল্পনা।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ‘বসে যাওয়া’ এবং ‘বাদ পড়া’ পুরনো নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করাই এই পুনর্মিলন সভার মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) উপস্থিতিতে এই সভায় ২০২১-এর প্রার্থী, প্রাক্তন জেলা সভাপতি এবং প্রাক্তন পদাধিকারী মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার জনকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তালিকার কোথাও নাম ছিল না দিলীপ ঘোষের। দলের আদি নেতাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁকে কেন্দ্র করে এ রাজ্যে বিজেপির উত্থান এবং যাঁকে সামনে রেখে ১৮টি আসন জিতেছিল দল, সেই দিলীপ ঘোষকে কেন ব্রাত্য রাখা হল? এই সভায় তাঁর অনুপস্থিতি দলের বর্তমান ক্ষমতাসীন শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দিলীপ ঘোষ যখন ব্রাত্য, ঠিক সেই সময়েই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নতুন রাজ্য কমিটির তালিকা দিল্লিতে জমা দিয়েছেন। ২৯ ডিসেম্বর রাতে কলকাতায় আসছেন অমিত শা। মনে করা হচ্ছে, শা-র সফরের পরেই নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন তালিকায় কার জায়গা হবে আর কারা বাদ পড়বেন, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বাদ পড়াদের ক্ষোভ প্রশমন করতে এবং পুরনোদের সক্রিয় করতে বনসল ও শমীক যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে দিলীপের মতো হেভিওয়েট নেতাকে কেন রাখা হল না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, শা-র সফর ঘিরে উদ্দীপনার খামতি নেই। বঙ্গ বিজেপির যুব মোর্চা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে-পিছনে ৪ থেকে ৫ হাজার বাইকের এক বিশাল মিছিলের পরিকল্পনা করেছে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সল্টলেক—এই পুরো যাত্রাপথে জনসযোগ ও শক্তির প্রদর্শন করতে চায় বিজেপি। কিন্তু এক শিবিরের যখন বাইক মিছিলের মহড়া চলছে, তখন দলের কতিপয় নেতা দিলীপের ব্রাত্য হওয়ার গ্লানি নিয়ে কানাঘুষো শুরু করেছেন। এখন দেখার, অমিত শা নিজে কলকাতায় এসে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে দিয়ে কোনও কড়া বার্তা দেন কি না।
