সিদ্ধার্থশংকর সরকার, পুরাতন মালদা: পুরাতন মালদা (Previous Malda) পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘যড়যন্ত্র’ তত্ত্ব সামনে আনলেন কার্তিক ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে নতুন করে সামনে এসেছে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলও। দলীয় নির্দেশে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন কার্তিক। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে ভোট মেরুকরণ হওয়ায় তৃণমূলের ফল খারাপ হয়। কিন্তু পরিশ্রমের কোনও ঘাটতি ছিল না। আমরা সকলেই হতাশ।’ জেলার সার্বিক ব্যর্থতার দায় শুধু তাঁর ওপর চাপানো কেন হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর তোলা বিভিন্ন প্রশ্ন এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে আসতেই কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। তবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর দাবি, ‘দলে কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। দলীয় নির্দেশ মেনেই চেয়ারম্যানের পদত্যাগ হয়েছে।’
পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে কার্তিককে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের তরফে পারফরমেন্সের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জেলার ব্যর্থতার দায় কি তাঁর একার, কার্যত প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কার্তিক। তাঁর বক্তব্য, ‘শুধু পুরাতন মালদায় খারাপ ফল হয়েছে, তা কিন্তু নয়। পুরো মালদা জেলাতেই খারাপ ফল হয়েছে। পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এলাকা থেকে বিধায়কদের কেন্দ্র, কোনও জায়গায় ভালো ফল হয়নি।’ অর্থাৎ যাঁদের এলাকায় ফল খারাপ হয়েছে, তাঁরা কেন স্বপদে থাকবেন, প্রশ্ন তুলেছেন কার্তিক। বিদায়ি চেয়ারম্যানের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কান ভারী করা হয়েছে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। যদিও এক্ষেত্রে কারও নাম প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। অনেকেই মনে করেন, কার্তিকের নিশানায় দলের শহর সভাপতি তথা কাউন্সিলার বিভূতিভূষণ ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। যদিও কার্তিকের সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বিভূতিভূষণ। তিনি শুধু বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা এখনও দল ঠিক করেনি।’ ফোন না ধরায় শফিকুলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কার্তিক জানান, ২৪ নভেম্বর জেলা সভাপতি তাঁকে মেসেজ করে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। দলকে মান্যতা দিয়ে পরেরদিনই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। তাঁর এদিনের বক্তব্য মালদা জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরের কোন্দলকে নতুন মাত্রা দেবে এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
