উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (Meeting Election 2026) আগে ফের স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ (BJP Chief Dilip Ghosh)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব থেকে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে মমতা-অভিষেক সম্পর্কিত একাধিক ইস্যুতে কথা বললেন দিলীপ। বুধবার অমিত শায়ের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠকের পর কোনও গুরুদায়িত্ব দিলীপকে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়ে জল্পনা ছিল। কিন্তু এনিয়ে প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বলেন, ‘না দায়িত্ব নিয়ে কথা হয়নি। আমাকে কোন বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সে প্রসঙ্গে তিনি (অমিত শা) নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে দল যেমন চাইবে তেমন ভাবে কাজ করব। রাজ্য সভাপতির কথা মেনে চলব। দলের যখন আমাকে প্রয়োজন আমি পাশে থাকব। আগামী ১৩ জানুয়ারি আমি আর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দুর্গাপুরে সভা করব। এখন থেকেই সভা- জনসংযোগের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করব।’
আদি-নব্যের দ্বন্দ্বে দিলীপ ঘোষ কি বিশ্বাসী? এর জবাবে কিছুটা সাবধানী বিজেপি নেতা। তাঁর উত্তর, ‘রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়। নতুন কেউ এলে দলের পরিস্থিতি বুঝতে একটু অসুবিধে হয়। আমাদের দলে আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব বলে কিছু নেই। আমি মাঠে লড়াই করা লোক। তাই হয়তো আমাকে বুঝতে কারুর কারুর অসুবিধে হয়। পরে অবশ্য সব ঠিক হয়ে যায়। আদি-অনন্ত বলে কিছু নেই। আমার থেকেও পুরোনো শমীক দা। তাঁকে বুঝতে তো আমার সমস্যা হয়নি। সবটা মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার।’
শমীক ভট্টাচার্য আপনাকে যে আন্তরিকতা দিয়ে ডেকে নিয়ে দুর্গাপুরে সভা করতে চেয়েছেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ডাকলে একইভাবে সাড়া দেবেন? এমন প্রশ্ন শুনে খানিক থেমে দিলীপ বলেন, ‘দু’জনেই আমার দলের নেতা। তাই যেই ডাকুক তাঁর সঙ্গে নিশ্চয়ই যাব। তাছাড়া আমাদের দলের সব নেতা তো এক জায়গায় সভা করতে পারবেন না। ১৩ তারিখের পর শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তাঁর সঙ্গে সভা করব।’
আপনি কি খড়গপুরে পুনরায় প্রার্থী হবেন? এ প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট জবাব, ‘আমি খড়গপুর থেকে লড়াই করে জিতেছি। দলের যদি লাভ হয়, তাহলে আবারও এই আসন থেকে লড়তে রাজি আছি।’
দিলীপকে প্রশ্ন ছিল, আপনি বলেছিলেন আপনাদের দলে কাঠি ও লবিবাজি করার লোক আছে? এ নিয়ে কী বলবেন? ‘দেখুন রাজনীতিতে মারপ্যাঁচ আছে। কিন্তু আমাদের দলে লবিবাজি নেই।’
মুখ্যমন্ত্রী যদি আপনাকে আবারও মন্দিরের উদ্বোধনের দিন ডাকেন, আপনি যাবেন? বিজেপি নেতার উত্তর, ‘আগে মন্দির তো হোক। রাজ্যে ব্যবসা নেই, শিক্ষা নেই, চাকরি নেই। মানুষ এসব বিষয়ে বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন। কে মন্দির করল, কে মসজিদ করল এসব নিয়ে মাথাব্যথায় নেই।’
অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বাংলাজুড়ে যাত্রা নিয়ে দিলীপ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যাত্রা করা আমাদের দেশে নতুন কিছু নেই। একজন যুব নেতা দেশজুড়ে যাত্রা করেছিলেন। দেখেছেন তো কী হয়েছিল? একেবারে কংগ্রেসকে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছেন। এখানাকার যুবনেতাও যাত্রা করবেন। তাঁকে যা জবাব দেওয়ার বাংলার মানুষ দেবেন।’
