উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গোয়ায় (Goa Information) ২৫টি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই অভিশপ্ত নৈশক্লাব অগ্নিকাণ্ডের (Goa Fireplace Investigation) নেপথ্যে ছিল একের পর এক ভয়াবহ অনিয়ম। তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোনও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিল ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামক ওই নৈশক্লাবটি। শুধু তাই নয়, উপকূলীয় অঞ্চলের বিধি লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে বেলেমাটির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল গোটা নির্মাণটি। সম্প্রতি গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ৬ ডিসেম্বর উত্তর গোয়ার আরপোরায় বাগা সুমদ্র সৈকতের কাছে অবস্থিত ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামে জনপ্রিয় নৈশক্লাবটিতে পার্টি চলাকালীন আগুন লেগে যায়। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার নেপথ্যে ছিল একাধিক অনিয়ম এবং বেআইনি নির্মাণ। বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বেআইনিভাবে ব্যবসা চালাচ্ছিল নৈশক্লাবটি। তা সত্ত্বেও স্থানীয় পঞ্চায়েত কোনওরকম ব্যবস্থা নেয়নি। যথাযথ ব্যবস্থা এবং সতর্কতা অবলম্বন না করেই সেখানে আতশবাজি রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেলেমাটির উপর গোটা ক্লাবটির নির্মাণ করা হয়েছিল, যা বেআইনি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার (Arrest) করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নৈশক্লাবের মালিক সৌরভ লুথরা এবং গৌরব লুথরা। ঘটনার পর তাঁরা থাইল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সম্প্রতি তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তদন্তের জাল এবার বিদেশের মাটিতেও ছড়াচ্ছে। নৈশক্লাবের জমির মালিক সুরিন্দর নামক এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘ব্লু কর্নার নোটিশ’ জারি করতে চলেছে সিবিআই। গত ৬ ডিসেম্বর নৈশক্লাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি গোয়াতেই ছিলেন। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর দেশ ছেড়ে চলে যান সুরিন্দর। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে সমনও জারি করে পুলিশ। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। এরপরই পুলিশ সিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
