Dhupguri | রাত জেগে পথকুকুরের শুশ্রূষায় তিন তরুণ

Dhupguri | রাত জেগে পথকুকুরের শুশ্রূষায় তিন তরুণ

ব্লগ/BLOG
Spread the love


শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত পথকুকুরের শুশ্রূষা করতে রাতভর চেষ্টা চালিয়ে গেলেন ধূপগুড়ির (Dhupguri) তিন তরুণ। তাঁদের সেই চেষ্টার ফলেই গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম সেই্‌ সারমেয় আপাতত সুস্থ। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তিন তরুণের সেই প্রচেষ্টা প্রশংসা কুড়িয়েছে ধূপগুড়ির বাসিন্দাদের।

কী ঘটেছিল? মঙ্গলবার রাতে ধূপগুড়ি থেকে শিলিগুড়িগামী জাতীয় সড়কের ওপর একটি পথকুকুর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই পশুপ্রেমীদের খবর দেন। এরপরই একে একে অবিনাশ পাসোয়ান, রাজু সাহা ও পঙ্কজ সরকার ঘটনাস্থলে চলে আসেন। জাতীয় সড়ক থেকে জখম সেই কুকুরটিকে সরিয়ে নিয়ে ফুটপাথের ওপর তুলে এনে চিকিৎসা শুরু করেন তাঁরা। দেখা যায়, সারমেয়টির শরীরের পেছনের অংশেই মূল আঘাত লেগেছে এবং শরীরের একাধিক হাড় সরে গিয়েছে সেই গাড়ির ধাক্কায়। অবিনাশরা জানিয়েছেন, সেই রাতেই পশু চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি। এরপরই পশুপ্রেমী তিন তরুণ তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। স্যালাইন দেওয়া থেকে শুরু করে ইনজেকশন দিয়ে সাময়িকভাবে সুস্থ করে তোলেন কুকুরটিকে। রাতে তাকে রেগুলেটেড মার্কেট চত্বরের গবাদিপশু ক্রয়বিক্রয় কেন্দ্রের পাশে নিরাপদ জায়গায় রেখে আসেন।

পশুপ্রেমী অবিনাশ বলেন, ‘সারমেয়টির পেছনের অংশে খুব আঘাত লেগেছে। শুশ্রূষা করা হচ্ছে। যেখানে সারমেয়টি রাখা হয়েছিল, বুধবারও সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। কিন্তু আরও ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।’ অপর পশুপ্রেমী রাজু সাহা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় একটু সতর্ক থাকা দরকার। পথকুকুর দৌড়ঝাঁপ করবেই। এদের নিয়ন্ত্রণ করা যথেষ্ট চাপের। ওই জখম কুকুরটির প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে।’ স্থানীয় দোকানদার অমিত সরকার জানান, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে এসে ধাক্কা মারে। তখনই পশুপ্রেমীদের খবর দেওয়া হয়। পশুপ্রেমীরা একযোগে জানিয়েছেন, মূলত ধূপগুড়িতে রাতে পশু চিকিৎসকদের হদিস মেলে না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে সম্পূর্ণ দায়িত্ব পশুপ্রেমীদেরই নিতে হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা তন্ময় পালের কথায়, ‘তিন তরুণ মিলে চিকিৎসা শুরু করেছেন, এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে রাতে প্রাণী চিকিৎসক পেলে আরও ভালো হত।’

অবিনাশরা বলছেন, ‘গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার পর এবং পশুপ্রেমীরা আসার আগে পর্যন্ত কুকুরটিকে কেউ স্পর্শও করেনি। তখনই কেউ উদ্ধার করলে সারমেয়র চিকিৎসা আরও আগে শুরু করা যেত।’ তবে তিন তরুণের মানবিকতা প্রশংসা কুড়িয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *