Shukri Conrad | ডব্লিউটিসি ফাইনালের সঙ্গে ভারত সফরের তুলনায় কনরাড

Shukri Conrad | ডব্লিউটিসি ফাইনালের সঙ্গে ভারত সফরের তুলনায় কনরাড

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


 অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : কথায় বলে, মেজাজটাই আসল রাজা। একজন মানুষের মেজাজ কখন ভালো থাকে? যখন তার জীবন ও কেরিয়ারে এগিয়ে চলার পথে সবকিছু পরিকল্পনামাফিক হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসরে এমন ভাবনার সেরা উদাহরণ হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ক্রিকেট দুনিয়ায় বহু বছর ধরেই ‘চোকার্স’ তকমা সেঁটে ছিল প্রোটিয়াদের সঙ্গে। টেম্বা বাভুমা, আইডেন মার্করামরা সেই তকমাটা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে হ্যাঁচকা টানে খুলে দিয়েছেন। দুনিয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকাও ক্রিকেটের আসরে সেরার তকমা পেতে পারে।

লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রোটিয়াদের ডব্লিউটিসি জয়ের সাফল্যের রেশ এখনও প্রবলভাবে রয়েছে মার্করামদের মধ্যে। সকালের ইডেন গার্ডেন্সে অন্তত ঘণ্টা তিনেকের অনুশীলন যার উদাহরণ। আরও বড় উদাহরণ হিসেবে আজ ক্রিকেট সমাজের সামনে হাজির হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুকরি কনরাড। ডব্লিউটিসি ফাইনাল কোচ হিসেবে কনরাডকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। দল হিসেবে সম্মান এনে দিয়েছে প্রোটিয়াদের।

এহেন কনরাড বুধবার অনুশীলনের পর হাজির হয়েছিলেন সাংবাদিক সম্মেলনে। যেখানে ভারতীয় দলের প্রতি পেশাদারি শ্রদ্ধাও যেমন জানিয়েছেন, তেমনই আগামীর পরিকল্পনার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। যার নির্যাস হল, টিম ইন্ডিয়ার তিন স্পিনারের পালটা হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাও তিন স্পিনারে প্রথম একাদশ গড়ছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল জিতে জীবন বদলে যাওয়ার পর সেই সাফল্যের পাশেই ভারত সফরের চ্যালেঞ্জকে রাখছেন কনরাড। তাঁর কথায়, ‘লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি আমরা। সেই সাফল্য দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের জন্য বিশাল। তার খুব কাছেই থাকবে ভারত সফর। স্পষ্ট বলছি, ডব্লিউটিসি ফাইনালের চ্যালেঞ্জের মতোই ভারত সফর।’

অক্ষর প্যাটেল, রবীন্দ্র জাদেজা ওয়াশিংটন সুন্দরদের পালটা হিসেবে কেশব মহারাজ, সাইমন হার্মার, সেনুরান মুথুস্বামীরা রয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন রাবাদা-জানসেনের গতি ও পেস। উপরি হিসেবে বাভুমা, মার্করামদের ব্যাটিং স্কিল। এমন শক্তি নিয়ে ইডেনে টিম ইন্ডিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার ডাকও আজ দিয়েছেন কোচ কনরাড। বলেছেন, ‘ভারত অবশ্যই শক্তিশালী দল। ঘরের মাঠে আরও বড় শক্তি ওরা। কিন্তু ওদের হারানোর মতো অস্ত্র রয়েছে আমাদের। ইডেনে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চাই আমরা।’ ক্রিকেটের নন্দনকাননে শুভমান গিলদের হারিয়ে আদৌ বাভুমারা ইতিহাস গড়তে পারবেন কিনা, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তার আগে সাফল্যের স্বপ্ন বুঁদ প্রোটিয়ারা। কোচ কনরাডের কথায়, ‘দলে ভালো মানের স্পিনার থাকলে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে, তেমনই ভারসাম্যও বাড়ে। আমি বলছি না যে, আমাদের দলে ভালো মানের স্পিনার ছিল না। কিন্তু অতীতের তুলনায় এখন যেসব স্পিনার রয়েছে, তারা অনেক বেশি কার্যকরী।’

পরিসংখ্যান ও ইতিহাস বলছে, ভারতের মাটিতে শেষ ১৫ বছরে একটিও টেস্ট জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। কোচ কনরাড আত্মবিশ্বাসী সুরে আজ দাবি তুলেছেন, ছবিটা বদলে দেওয়ার। ডব্লিউটিসি জয়ের পাশে পাকিস্তানে সিরিজ ড্র করার পর এবার তিনি ইডেনে নয়া ইতিহাস গড়তে চান। কাজটা কি এতই সহজ? কে জানে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *