উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর হুঁশিয়ারির পরেই নড়েচড়ে বসল পুলিশ। বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেপ্তার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ (Dhirendra Shastri Poster Burning Arrest)। শুক্রবার ভোরে টালিগঞ্জের নিজ বাড়ি থেকেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
চলতি মাসের শুরুতেই রাজ্যে এসে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানে দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। ধীরেন্দ্রর দাবি ছিল, পুজোর দিনগুলিতে যাঁরা আমিষ আহার করেন, তাঁরা ‘পাষণ্ডী’ বা ভণ্ড। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে, এমনকি খোদ বিজেপি নেতাদের একাংশও তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস নেতারা। ওই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা অতনু দাস। কিন্তু এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নজরে নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অন্দরে তিনি কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ভবানীপুর থানার সামনে কিছু লোককে ছবি পোড়াতে দেখেছি। আমি পুলিশ কমিশনারকে বলছি, এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের রাজ্যে এই সব বরদাস্ত হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই স্পষ্ট বার্তার পরেই রাতে তড়িঘড়ি আসরে নামে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে ভবানীপুর থানার একটি দল অতনু দাসের টালিগঞ্জের বাড়িতে হানা দেয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। আজই তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে কংগ্রেস নেতার এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের মুখে কংগ্রেসের গ্রেপ্তারির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে কংগ্রেস যে পিছু হঠবে না, সেই বার্তা দিয়ে তিনি লিখেছেন, “জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো অন্যায়ের সামনেই কংগ্রেস মাথা নত করেনি। কংগ্রেস সৈনিকরা প্রতিবাদের পথ থেকে সরে যাননি।”

