গোটা গ্রামে বিজেপি করতেন একটি মাত্র পরিবার। একেবারে ময়দানে পড়ে থেকে দল করতেন। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আশাজনক ফল হয়নি। একাধিক আসনে হার হয়। অভিযোগ, এরপরেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ি। তাঁর অপরাধ, তিনি বিজেপি করতেন। মারধর এবং অত্যাচারে গোটা পরিবারকে গ্রাম ছাড়া হতে হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই স্বস্তি ফিরেছে গাইঘাটার বিশ্বাস পরিবারে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অবশেষে বাড়ি ফিরলেন পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরে রীতিমতো আবেগে ভাসলেন বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা।
এই বিষয়ে আরও খবর
জানা গিয়েছে, গাইঘাটা থানার সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচপোতা আচার্যপাড়ার বাসিন্দা কল্পনা বিশ্বাস৷ জামাই গোবিন্দ দাস ও মেয়ে অতসিকে নিয়ে একই বাড়িতে থাকতেন। ভরা তৃণমূল জমানায় এলাকায় একমাত্র বিজেপি পরিবার বলে পরিচিত ছিলেন তাঁরা। ফলে প্রতি মুহূর্তে তাঁদের উপর বিজেপি ছাড়ার চাপ আসত বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতেন বলেও অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়। এরপরেই বিজেপি সমর্থক কল্পনা, তাঁর মেয়ে অতসী ও জামাই গোবিন্দ দাসকে একেবারে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরের দিন সকালে বিজেপির পাঁচপোতা মণ্ডলের সহ-সভাপতি বাবলু দাস তাঁদের উদ্ধার করে ঠাকুরনগর হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। ওইদিনই তাঁদের বসতভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়। পরে তাঁরা খবর পান, বসতবাড়িটি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে আর কল্পনা, অতসী কিংবা তাঁদের জামাই গোবিন্দ কেউ আর গ্রামে ফিরতে পারেননি। গোবিন্দ দাস বলেন, বাড়ির বাইরে থেকেও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। সেই মামলাতে গ্রেপ্তারও করা হয়। জামিনে মুক্তি পেলেও এখনও সেই মামলা বিচারাধীন বলে জানান গোবিন্দ।
অন্যদিকে বিজেপি সমর্থক কল্পনা দাস বলেন, ”তৃণমূলের ভয়ে তখন আমাদের এলাকায় কেউ বিজেপি করতেন না। শুধু আমরাই বিজেপি সমর্থক ছিলাম। ২০২১ সালে ভোটে হেরে যাওয়ার পর তৃণমূলের লোকেরা বুলডোজার দিয়ে আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছিলেন। আমাদের মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।” সেদিনের ঘটনা এখনও মনে পড়লে শিউরে ওঠেন কল্পনাদেবী। কিন্তু বিশ্বাস ছিল একদিন অবস্থার বদল ঘটবেই। আর তা ঘটেছেও। আর তাই দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নিজের বাড়িতে ফিরে চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি কল্পনা দাস।
বিজেপি সমর্থক কল্পনা দাস বলেন, ”তৃণমূলের ভয়ে তখন আমাদের এলাকায় কেউ বিজেপি করতেন না। শুধু আমরাই বিজেপি সমর্থক ছিলাম। ২০২১ সালে ভোটে হেরে যাওয়ার পর তৃণমূলের লোকেরা বুলডোজার দিয়ে আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছিলেন। আমাদের মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।”
বিজেপির পাঁচপোতা মন্ডলের সহ-সভাপতি বাবলু দাস বলেন, ”ওই সময় আচার্যপাড়ায় শুধুমাত্র বিশ্বাস পরিবার বিজেপি করত। আমাদের দল করার অপরাধে তাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে মারা হয়েছিল। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা ওই পরিবারের ওপর নির্ধারণ অত্যাচার করেছিলেন। পাঁচ বছর পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আমাদের সরকার গঠিত হওয়ার পর বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা আবার গ্রামে ফিরে এসেছেন।”
যদিও বাড়ি ভাঙা কিংবা মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের পাঁচপোতা ব্লকের সভাপতি বিকাশ আচার্য জানান, ‘শম্ভু বিশ্বাসের পরিবার পুরোপুরি মিথ্যা কথা বলছেন। ওনারা তৃণমূল করতেন। কিন্তু জমি নিয়ে ছিল শরিকি বিবাদ।” তৃণমূল নেতার কথায়, ওনাদের আত্মীয়রাই জমি থেকে ওদের সরিয়ে বাড়ি করে সেখানে গ্রামের এক লোককে বসিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক কোনও বিষয় ছিল না। গ্রামে ফিরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার বিশ্বাস পরিবার করছে বলেও অভিযোগ বিকাশবাবুর।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
