পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙন। জল্পনা সত্যি করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। আর সেই দলে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম আস্থাভাজন অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। তৃণমূল ছেড়ে এবার তিনি শরিক হতে চান এনডিএ জোটের। বলা ভালো, বকলমে বিজেপিতে শামিল হওয়া।
সোমবার দিল্লি দরবারে এহেন বেনজির পটপরিবর্তনে গুঞ্জন তুঙ্গে। দেব কি তৃণমূলে রুষ্ট ছিলেন? স্বরূপ-সংঘাতে কি তাঁর মন বিষিয়ে ছিল? নাকি, বদলের বাদলায় নাইয়ে নিলেন টলিউডের মেগাস্টার? সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী অধ্যায়ে মেগা দলবদল পর্বে বিজেপির অন্দরে বেশ কয়েকবার উঠে এসেছে দেবের নাম। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে প্রায় ১২ জন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছিলেন। সেখানে নীল শার্ট আর হাজির ছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব।
আরও পড়ুন:

খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আগেই কথাবার্তা সেরে ফেলেছিলেন। তারপরই দিল্লির বৈঠকে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘাটালের সাংসাদ দেবের। একটু পিছন ফিরে তাকালে মনে পড়ে যায়, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোট পূর্ববর্তী ঘটনা। সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন লোকসভা ভোটে প্রার্থী হতে রাজি নন। কারণ ঘাটালের মানুষকে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, বন্যা রুখতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু, মমতার সরকারের আমলে দেবের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সেই স্বপ্ন সফল করতেই দিল্লি উড়ে গেলেন দেব? জল্পনা তুঙ্গে।

২০২৩ সালে কালীপুজোর পরদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকে বাড়িতে ডেকে দধিকর্মা খাইয়েছিলেন। সেদিন দেবের সঙ্গে আবাদাভাবে কথধা বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেদিন দেবকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাবদ আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর ফের প্রার্থী হতে রাজি হন। কিন্তু, বছর ঘুরলেও পূর্বতন সরকার তার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। ফলস্বরূপ দেবও ঘাটালবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে পারেননি। দিল্লির বৈঠকে দেবের উপস্থিতি ঘটাল মাস্টার প্ল্যানকে বাস্তবায়িত করার সমার্থক তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
