প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলার (Alipurduar) বড় অংশের জুনিয়ার হাইস্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়েছে। একসময় জেলায় ১০১টি জুনিয়ার হাইস্কুল ছিল। পড়ুয়ার অভাবে ইতিমধ্যেই সেগুলির মধ্যে ১৫টি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ৮৬টি স্কুলের মধ্যে প্রায় অর্ধেক স্কুলেই পড়ুয়ার সংখ্যা ৫০-এর নীচে বলে অভিযোগ। জেলার কিছু জুনিয়ার হাইস্কুলে এখনও কয়েকশো পড়ুয়া রয়েছে। তবে এগুলি বাদ দিয়ে অধিকাংশ স্কুলের বিদ্যালয়েই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১০০–রও কম। পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরেই বহু বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বড় অংশেও পড়ুয়া কমছে। একইভাবে জুনিয়ার হাইস্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্কুলগুলির হাল ফেরানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক জয়ন্ত সাহা বলেন, ‘অনেক জুনিয়ার হাইস্কুল উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে। একাংশ স্কুলে শিক্ষকসংকট তৈরি হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতও ভাবাচ্ছে। উৎসশ্রী প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে কিছু স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে। স্কুলগুলিকে বাঁচাতে সরকারের সদর্থক পদক্ষেপ করা উচিত।’ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) রবিনা তামাংকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শিক্ষা দপ্তর ও শিক্ষক সংগঠন সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ার–১ ব্লকের কদমতলা জুনিয়ার হাইস্কুল, শিলবাড়িহাট স্পেশাল ক্যাডেট জুনিয়ার হাইস্কুল সহ জেলার বড় অংশের বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা একশোর নীচে নেমে এসেছে। আলিপুরদুয়ার শহরের অরবিন্দনগর জুনিয়ার হাইস্কুলে একসময় ৩০০-রও বেশি পড়ুয়া ছিল। পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৭-তে। বর্তমানে ধীরে ধীরে তা বেড়ে প্রায় ৫০ হয়েছে। কিন্তু স্কুলের সীমানা প্রাচীর না থাকায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্কুলটি রাস্তার ধারে হওয়ায় এখানে গৃহপালিত পশুর উপদ্রব বাড়ছে। অনেকসময় রাতে সেখানে নেশার আড্ডা বসারও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের একাংশ বিভিন্ন সময় সরব হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মহলে সীমানা প্রাচীর তৈরির আবেদন জানালেও সমস্যার সমাধান হয়নি। টিচার ইনচার্জ অজিতকুমার রায় বললেন, ‘পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যার সমাধান হলেই স্কুলে পড়ুয়া বৃদ্ধি পাবে।’
জেলার অধিকাংশ জুনিয়ার হাইস্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব রয়েছে। পরিকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কারণেও পড়ুয়াদের আগ্রহ কমছে বলে অভিযোগ। জুনিয়ার হাইস্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। নবম শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। ফলে অনেক পড়ুয়া ও অভিভাবকের আগ্রহ শুরু থেকেই ওই স্কুলগুলির দিকেই বেশি। সম্প্রতি অতিরিক্ত শিক্ষকদের অন্যত্র বদলির নির্দেশিকা ঘোষণার পর পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক মহলের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার পরই অতিরিক্ত শিক্ষকদের বদলি করা হোক। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের সম্পাদক পিরাজ কিরণের কথায়, ‘শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই স্কুলগুলির সমস্যা অনেকটাই মিটবে। এছাড়াও স্কুলগুলিতে পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকলে তা দেখা হবে।’ সংগঠনের তরফে এমন তালিকা তৈরি করে শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

