উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লিতে (Delhi) ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিবাদ আন্দোলন ও বিরোধী নেতাদের আটকের জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন পরিস্থিতির শুনানিতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রতিবাদ চলাকালীন গণপরিবহনে নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশি ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলার শুনানির জন্য রবিবার (১১ অক্টোবর) ছুটির দিনেই বিশেষ বেঞ্চ বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি পরিচালনা করবেন।
শনিবারের প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে দুটি প্রধান মামলা দাখিল হয়েছে:
- আদালতের নির্দেশ অবমাননার মামলা (Contempt Petition): আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই পিটিশন দাখিল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মেট্রো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তা লঙ্ঘন করেছে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (DMRC) চেয়ারপার্সন ডি থারাকে বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে।
- হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন (Habeas Corpus): দ্বিতীয় পিটিশনটিতে প্রতিবাদী বিরোধী নেতা, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বেআইনি আটক বা প্রিভেনটিভ ডিটেনশনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এবং তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির আর্জি রাখা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে, প্রতিবাদের নামে মেট্রো বা ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যাবে না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে আদালত কড়া ভাষায় জানিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব যেমন প্রশাসনের রয়েছে, তেমনই সাধারণ নাগরিকদের জনজীবন স্বাভাবিক রাখাটাও জরুরি।
রবিবারের এই বিশেষ ছুটির দিনের শুনানিতে শীর্ষ আদালত কী রায় দেয় এবং ধৃত রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি কিংবা পরিবহন ব্যবস্থার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়ে কী নির্দেশ আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা দেশের।

