উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের (Sabyasachi Dutta) মামলা এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ—এই দুই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে এখন বড়সড় মোড়। দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) যেমন তদন্তের গতি বাড়িয়েছে, তেমনই বিধাননগর পুলিশও গঠন করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
ইডি সূত্রে খবর, সব্যসাচী দত্ত ও দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি এবং বিপুল অর্থ লেনদেনের যাবতীয় নথি, এফআইআরের কপি এবং আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করে কলকাতার ইডি দফতর থেকে দিল্লির সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। এই দুই ঘটনায় আগেই ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করা হয়েছিল। এখন দিল্লির সবুজ সংকেত মিললেই তদন্তকারী আধিকারিকরা পরবর্তী বড় পদক্ষেপ নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা মূলত আর্থিক তছরুপ, বেনামি সম্পত্তি এবং বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে টাকা ঘোরানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।
অন্যদিকে, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটও দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির মামলার তদন্তে তৎপর। এই তদন্তের জন্য ডিসি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি সিট গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মূল নজরে রয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীর মালিকানাধীন ‘ডিসি গ্লোবাল কোম্পানি’। উদ্ধার হওয়া একটি ল্যাপটপ থেকে পাওয়া তথ্যই এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই সংস্থার মাধ্যমেই জমি কেনাবেচা এবং আর্থিক লেনদেনের জাল বিস্তার করা হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ওই ল্যাপটপ থেকে পাওয়া ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণের কাজ চলছে। উদ্ধার হওয়া নথি থেকে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও নতুন আর্থিক যোগসূত্র সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এই জোড়া তদন্তের আবহে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে ইডির নজরদারি এবং অন্যদিকে পুলিশের বিশেষ দলের সক্রিয়তায় অভিযুক্তদের ওপর আইনি চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট। আর্থিক দুর্নীতির উৎস ও নেটওয়ার্ক খুঁজতে তদন্তকারী দলগুলো এখন প্রতিটি নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছে।

